জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে দীর্ঘ ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের ফসল মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ভারতের উদ্দেশে বলেছেন, ‘হাসিনা কার্ড খেলবেন আর বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখবেন, মনে রাখবেন দুটি বিপরীত। আশা করি, ভারত কর্তৃপক্ষ ও সরকার বিষয়টি বুঝবে।’ গতকাল শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল ও ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) যৌথ উদ্যোগে ‘জুলাই-গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর দুই বছরপূর্তি উপলক্ষে ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে সে দেশকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। ভারত যদি গণঅভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনাকে সেখানে বসে রাজনৈতিক তৎপরতা চালানোর সুযোগ দেয়, তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে দেশটিকে নতুন করে ভাবতে হবে।’
নতুন রাজনৈতিক শক্তির প্রতি ইঙ্গিত করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নতুন বন্ধুরা নতুন বন্দোবস্ত ও নতুন রাজনীতির কথা বললেও অনেক ক্ষেত্রে পুরনো বন্দোবস্তের ধারায় রাজনীতি করছেন। তাদের জানা উচিত রাজনীতির মাঠ কঠিন, বন্ধুর ও কণ্টকাকীর্ণ। চেতনা বিক্রির রাজনীতি বাংলাদেশে আর হবে না।
আলোচনা সভায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, এই জাতি কখনো অন্যায়-অবিচার দীর্ঘদিন ধারণ করে না। সবসময় যেকোনো আগ্রাসী শক্তি ও ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে একটি পর্যায়ে ভয়ংকর রূপে আত্মপ্রকাশ করে। সেই ধারাবাহিকতার চূড়ান্ত পরিণতি হচ্ছে জুলাই।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
