অক্সিজেন আল্লাহর শ্রেষ্ঠ নেয়ামত

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৪ এএম

মহান আল্লাহ মানুষকে অসংখ্য দৃশ্য ও অদৃশ্য নেয়ামতে ধন্য করেছেন। এসব নেয়ামতের মধ্যে অক্সিজেন এমন এক অমূল্য দান, যা প্রতিটি মুহূর্তে মানুষের জীবনকে সচল রাখে। মানুষ খাদ্য-পানীয় ছাড়া কয়েক দিন বেঁচে থাকতে পারলেও অক্সিজেন ছাড়া কয়েক মিনিটের বেশি বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। অথচ এই জীবন রক্ষাকারী উপাদান মহান আল্লাহ সবাইকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দান করেছেন। তাই অক্সিজেন নিঃসন্দেহে তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেয়ামত।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?’ (সুরা আর-রহমান ১৩) এই আয়াত মানুষের প্রতি আল্লাহর অগণিত অনুগ্রহ স্মরণ করিয়ে দেয়। আমরা প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার বার শ্বাস নিই। অথচ খুব কম মানুষই এই অনবদ্য নেয়ামতের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি।

আধুনিক বিজ্ঞান বলছে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রায় ২১ শতাংশ অক্সিজেন রয়েছে। একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন প্রায় ৫৫০ লিটার বিশুদ্ধ অক্সিজেন ব্যবহার করেন। উদ্ভিদ ও বনভূমি সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অক্সিজেন উৎপন্ন করে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। তাই গাছপালা শুধু প্রকৃতির শোভা নয়, মানবজীবনের নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘তিনিই আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, অতঃপর তা দ্বারা আমি নানা প্রকার উদ্ভিদ উৎপন্ন করি।’ (সুরা তাহা ৫৩) এ আয়াত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, প্রকৃতির প্রতিটি ব্যবস্থার পেছনে রয়েছে আল্লাহর নিখুঁত পরিকল্পনা।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বৃক্ষরোপণকে সদকায়ে জারিয়ার মর্যাদা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কোনো মুসলিম যদি একটি গাছ রোপণ করে, অতঃপর তা থেকে মানুষ, পাখি কিংবা কোনো প্রাণী আহার করে, তবে তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হয়। (সহিহ বুখারি)

আজ বিশ্বজুড়ে বায়ুদূষণ, বন উজাড় ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশুদ্ধ বাতাসের সংকট বাড়ছে। কভিড-১৯ মহামারীর সময় অক্সিজেনের অভাব বিশ্ববাসীকে শিখিয়েছে, আল্লাহর এই নেয়ামতের মূল্য কত অপরিসীম। তাই পরিবেশ রক্ষা, বৃক্ষরোপণ, বন সংরক্ষণ এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ শুধু নাগরিক দায়িত্ব নয়, ইসলামের দৃষ্টিতেও এটি আমানত রক্ষার অংশ।

মহান আল্লাহ পৃথিবীকে মানুষের জন্য বাসযোগ্য করেছেন এবং এর ভারসাম্য রক্ষার দায়িত্বও মানুষের ওপর অর্পণ করেছেন। তাই অক্সিজেনের মতো মহান নেয়ামতের কদর করা, আল্লাহর প্রতি সর্বদা কৃতজ্ঞ থাকা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, নির্মল ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলাই হোক আমাদের অঙ্গীকার। কেননা, যে নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা হয়, আল্লাহ সেই নেয়ামত আরও বৃদ্ধি করে দেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের আরও বেশি দান করব।’ (সুরা ইবরাহিম ৭)

লেখক : শিক্ষক ও ইসলামি গবেষক

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত