বিশ্ব হাতি দিবসে বান্দরবানে সচেতনতা সভা, ১২ পরিবারকে ক্ষতিপূরণ

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম

“বিশ্বজুড়ে ঐক্য গড়ি, হাতির জীবন রক্ষা করি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বান্দরবানে বিশ্ব হাতি দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বুধবার (১১ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলার টংকাবতী ইউনিয়নে সচেতনতামূলক র‌্যালি, আলোচনা সভা ও ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করা হয়।

সকালে টংকাবতী ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে সচেতনতামূলক র‌্যালিটি বের হয়। র‌্যালিটি এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ইউনিয়ন পরিষদের সভাকক্ষে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে অংশ নেন।

পরে বান্দরবান বন বিভাগের টংকাবতী রেঞ্জের আয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদের সভাকক্ষে হাতি সংরক্ষণ এবং মানুষ-হাতির সংঘাত কমাতে করণীয় বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বান্দরবানের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. তৌফিকুল ইসলাম। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা হীরামনির সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন টংকাবতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাং য়ং ম্রো (প্রদীপ) ও সহকারী বন সংরক্ষক রিটা আক্তার। টংকাবতী রেঞ্জ কর্মকর্তা রাফি-উদ-দৌলা সরদারের সঞ্চালনায় সভায় বন বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বন উজাড়, হাতির আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া এবং খাদ্যের সংকটের কারণে মানুষ ও হাতির মধ্যে সংঘাত বাড়ছে। হাতির আবাসস্থল সংরক্ষণ, বন রক্ষা এবং স্থানীয় জনগণকে সচেতন করার মাধ্যমে এ সংঘাত অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

বক্তারা আরও বলেন, হাতি দেশের জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করাও জরুরি। মানুষ ও হাতির সহাবস্থান নিশ্চিত করতে বন বিভাগ ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।

সভা শেষে টংকাবতী রেঞ্জ এলাকায় হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ১২টি পরিবারের মধ্যে বন বিভাগের পক্ষ থেকে মোট ১ লাখ ৮৭ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করেন অতিথিরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত