প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন পুকুরেই সমাহিত

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১১ এএম

দেশসেরা নটর ডেম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পেরিয়ে প্রকৌশলী হওয়ার ব্রত নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট)। স্বপ্ন ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে আমেরিকায় গিয়ে পিএইচডি করবেন। তারপর ফিরে এসে আত্মনিয়োগ করবেন দেশের কাজে। কিন্তু শান্ত দেবের সেই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল। বন্ধুদের সঙ্গে সাঁতার কাটতে নেমে তলিয়ে গিয়ে অকালমৃত্যু হয়েছে শান্ত দেব ও তার বন্ধু অর্ণব দত্ত চমকের। বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলসংলগ্ন পুকুরে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

এর আগে গত ২৮ জুলাই একই পুকুরে গোসল করতে নেমে প্রাণ হারিয়েছিলেন যন্ত্রকৌশল বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র অর্ণব সাহা। নিহত শান্ত দেব চুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল (ইইই) বিভাগ এবং অর্ণব দত্ত চমক কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। দুইজনেরই শিক্ষাবর্ষ ২০২৪-২৫।

মৌলভীবাজারে পাশাপাশি গ্রামের সন্তান ছিলেন এই দুই বন্ধু। শান্ত দেবের বাবা মৌলভীবাজার সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের কর্মচারী প্রবেশ কুমার দেব কান্নাজড়িত কণ্ঠে দেশ রূপান্তরকে বলেন, শান্ত ও চমক দুই বন্ধু। তাদের বাড়ি আমাদের বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে। সোমবার দুই বন্ধু শ্রীমঙ্গল গিয়ে ট্রেনযোগে চট্টগ্রাম যায়। এটাই ছিল ছেলের সঙ্গে আমার শেষ দেখা।

প্রবেশ কুমার দেব বলেন, আমার ছেলে সাঁতার জানত। আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না সে পুকুরে ডুবে মারা গেছে। তার বাবা আরও বলেন, শান্ত দুই ভাইয়ের মধ্যে ছোট। তার বড় ভাই নেদারল্যান্ডসের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় বর্ষে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পুকুরটি সম্প্রতি সংস্কার করা হয়। ফলে এর গভীরতা বেশ বেড়ে যায়। দুপুরে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে গোসল করতে নামেন শান্ত ও অর্ণব। সাঁতার কাটার একপর্যায়ে দুজনই পানির নিচে তলিয়ে যান। সহপাঠীরা তাৎক্ষণিকভাবে খোঁজাখুঁজি শুরু করে একজনকে ১০ মিনিটের মধ্যে এবং অপরজনকে প্রায় অর্ধঘণ্টা পর পানি থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। প্রথমে তাদের চুয়েটের চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নগরীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। ইলেকট্রনিক ও টেলিকমিউনিকেশন্স বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, “আমি পুকুরের সামনে গিয়ে দেখি সবাই ‘ডুবে যাচ্ছে’ বলে চিৎকার করছে। এরপর সবাই বিষয়টি বুঝতে পেরে উদ্ধারের জন্য দ্রুত এগিয়ে যাই। ৮-১০ মিনিটের মধ্যে একজনকে পাওয়া যায়। পরে আরও ৪০-৫০ মিনিট পর আরেকজনকে উদ্ধার করা হয়।” চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, তারা পাঁচ বন্ধু পুকুরে সাঁতার কাটতে নামে। তারা একবার পুকুরের এপার থেকে ওপার চলে যায়। পরে আবার এপারে যাওয়ার সময় দুইজন ডুবে যায়।  তিনি আর বলেন, আমরা তাদের মরদেহ নিজ নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। মরদেহের সঙ্গে শিক্ষক ও তাদের সহপাঠীরা রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত