লোডশেডিং ও গ্যাস সংকট

নারায়ণগঞ্জ শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন ব্যাহত

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১২ এএম

নারায়ণগঞ্জের শিল্প এলাকাগুলোতে বিদ্যুতের লোডশেডিং এখন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চাহিদা মেটাতে যেখানে বাড়তি জ্বালানি প্রয়োজন, সেখানে নিয়মিত জ্বালানি সংকট নতুন সমস্যা তৈরি করছে। বিদ্যুতের ঘাটতি মেটাতে শিল্প কারখানা কর্তৃপক্ষকে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। গ্যাস সংকটে শিল্পোৎপাদন ১৫-২০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন শিল্প মালিকরা। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আয় কমে যাচ্ছে শ্রমিকদের। এ ছাড়া সিএনজি পাম্পগুলোতে চাহিদামতো গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন যানবাহন চালকরা। অন্যদিকে বিদ্যুতের পাশাপাশি গ্যাস সংকটও প্রকট আকার ধারণ করায় গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানা এবং আবাসিক এলাকায় গৃহিণীরা দুর্ভোগে পড়েছেন।

জানা গেছে, শিল্প বাণিজ্যের নগরী নারায়ণগঞ্জে চাহিদার তুলনায় ৩০-৪০ শতাংশ কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় নিয়মিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এতে শিল্প উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষি সেচ কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ গার্মেন্টস হোসিয়ারি কারখানাগুলোতেও শ্রমিকরা কাজ করতে পারছে না। বসতবাড়িতে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে পানি সরবরাহও ব্যহত হচ্ছে। তীব্র তাবদাহে বসতবাড়িতে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষ খোলা জায়গায় গাছের নিচে অবস্থান করছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। আবাসিক এলাকায় গ্যাস সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গৃহিণীরা। এতে কর্মজীবীদেরও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আবাসিকে সারা দিনই চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহ কম থাকছে। গতকাল বিকেলে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে রোগীদের জন্য লাকড়ির চুলায় রান্না করতে দেখা গেছে।

শিল্পকারখানায় শ্রমিকরা জানান, গ্যাস না থাকায় লাকড়ির চুলায় রান্না করতে হচ্ছে। এতে দুর্ভোগ আরও বেড়ে গেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় বসতবাড়িতে গিয়েও শান্তি পাওয়া যাচ্ছে না। আবার বিদ্যুৎ সংকটে নিয়মিত ওয়াসার পানিও সরবরাহ হচ্ছে না। বিকেএমইএর সহসভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল বলেন, জ্বালানি সংকট এবং লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কমে গেছে। সময়মতো অর্ডার সাপ্লাই দিতে না পারলে মালিকরা ক্ষতির মুখে পড়বে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত