দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে বাড়ছে ক্ষোভ, নিরাপত্তা চেয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের চিঠি

তীব্র লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে জনরোষ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক প্রচারণার মুখে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ স্থাপনা ও কর্মীদের রক্ষায় পুলিশ প্রশাসনের চরম সতর্কতা।

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১১:২২ এএম

বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বল্পতার কারণে দেশব্যাপী চলমান তীব্র লোডশেডিংয়ে কুষ্টিয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় জনমনে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ অবস্থায় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মী ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে অনাকাঙ্ক্ষিত হামলা বা নাশকতার আশঙ্কায় নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ প্রশাসনের কাছে চিঠি দিয়েছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্টিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) এবং কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ওজোপাডিকো কুষ্টিয়ার বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন স্বাক্ষরিত একটি পত্র জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর পাঠানো হয়। ওজোপাডিকো জানায়, বিদ্যুৎ সংকট ও জনঅসন্তোষের কারণে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির ঝুঁকি এড়াতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই আবেদন করা হয়েছে।

পত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, কুষ্টিয়ার কেপিআইভুক্ত ও গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক স্থাপনা যেমন- পুলিশ লাইনের পাশে অবস্থিত ৩৩/১১ কেভি মজমপুর উপকেন্দ্র, কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের পাশে বটতৈল ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র, খাজানগরের কবুরহাট ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র এবং ভেড়ামারা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংলগ্ন ৩৩/১১ কেভি ভেড়ামারা উপকেন্দ্রে নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে। এসব গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পুলিশ ফোর্স মোতায়েন এবং পুলিশি নজরদারি ও টহল জোরদার করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, একইভাবে কর্মী ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সুরক্ষায় প্রশাসনের সহায়তা চেয়েছে কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিও। সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জাহাঙ্গীর আলম জানান, চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রায় সাড়ে ৫ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হচ্ছেন। এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে কতিপয় ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুষ্টিয়ার হরিপুর এলাকার বিদ্যুৎ অফিস ও সাবস্টেশন ঘেরাও এবং হামলার মতো উসকানিমূলক প্রচারণা চালাচ্ছে। এতে রাষ্ট্রীয় সম্পদের নিরাপত্তার ওপর ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় দ্রুত আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে পৃথক দুটি চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ জানান, ওজোপাডিকো ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও স্থাপনাগুলোতে পুলিশি নজরদারি বাড়ানোসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত