‘এসএ গেমসে ৩-৪টি স্বর্ণজয়ের সক্ষমতা রয়েছে’

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৮ এএম

বাংলাদেশের একসময় অপ্রচলিতই ছিল ফেন্সিং। অলিম্পিক ইভেন্টে হলেও খেলাটির সঙ্গে তেমন কোনো পরিচয় ছিল না ক্রীড়ামোদীদের। তবে ২০১৯ নেপাল এসএ গেমসে প্রথমবার স্বর্ণ জিতে ফেন্সিংকে বাঙালি জাতির কাছে পরিচয় করিয়ে দেন ফাতেমা মুজিব। এখন দেশের সবাই জানেন খেলাটি সম্পর্কে। আগামী বছরের এসএ গেমসে তিন থেকে চারটি স্বর্ণপদক এনে দেওয়ার সামর্থ্য ফেন্সিংয়ের রয়েছে বলে দাবি করেছেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইফুল হক। তার সঙ্গে কথা বলেছেন সিনিয়র রিপোর্টার ওমর ফারুক রুবেল

বাংলাদেশ ফেন্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আপনি। আগেও কি খেলাটি সম্পর্কে জানতেন?

কাজী সাইফুল হক : আমি নতুন নই। এর আগেও দুই দফায় ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। ২০২১ সাল থেকে ফেডারেশনের ট্রেজারার ছিলাম। সরকার পরিবর্তনের পরও একই দায়িত্বে ছিলাম। এবার সরকার আমাকে বাংলাদেশ ফেন্সিং ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। নতুন দায়িত্ব পেয়ে আমি ফেন্সিংয়ের উন্নয়নে আরও পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে চাই।

বাংলাদেশে এখনো ফেন্সিং খুব বেশি পরিচিত নয়। এই খেলার প্রসারে আপনার পরিকল্পনা কী?

কাজী সাইফুল : আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো সারা দেশে নতুন ফেন্সার তৈরি করা। ফেন্সিং এখনো অপ্রচলিত একটি খেলা। এটি জনপ্রিয় করতে হলে তৃণমূল থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে দিতে হবে।

ফেন্সিংকে ব্যয়বহুল খেলা বলা হয়। এটি কতটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে?

কাজী সাইফুল : ফেন্সিংয়ের পোশাক, তরবারি ও অন্যান্য সরঞ্জামের দাম অনেক বেশি। তাই এটি ব্যয়বহুল খেলা। অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় শুধুমাত্র সরঞ্জামের অভাবে এগিয়ে যেতে পারে না। এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে আমাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা প্রয়োজন।

স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছেন?

কাজী সাইফুল : ফেন্সিংয়ের নিয়মকানুন আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত কাঠামোবদ্ধ এবং এর কমান্ডগুলো ফরাসি ভাষায় দেওয়া হয়। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলাটি সহজে বিকশিত হতে পারে। আমরা ইতিমধ্যে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশে (এআইইউবি) একটি ফেন্সিং ক্লাব গঠন করেছি। এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও একই উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এবং স্কলাস্টিকাসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ইতিমধ্যে ফেন্সিং প্রদর্শন করা হয়েছে। লক্ষ্য হলো স্কুলভিত্তিক ক্লাব গঠন করে ভবিষ্যতের ফেন্সার তৈরি করা।

অনেকেই মনে করেন ফেন্সিং শুধু ধনীদের খেলা। আপনি কী বলবেন?

কাজী সাইফুল : আমি এই ধারণার সঙ্গে একমত নই। আমাদের স্বর্ণজয়ী ফেন্সার ফাতেমা মুজিব কোনো ধনী পরিবারের সন্তান ছিলেন না। তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কর্পোরাল হিসেবে কর্মরত। আমাদের অনেক খেলোয়াড়ই সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। তাই প্রতিভা থাকলে আর্থিক অবস্থান কোনো বাধা নয়।

আর্থিকভাবে অসচ্ছল প্রতিভাবান ফেন্সারদের জন্য কী পরিকল্পনা রয়েছে?

কাজী সাইফুল : আমরা চাই মেধাবী কিন্তু অসচ্ছল ফেন্সাররা উচ্চশিক্ষা ও খেলাধুলা একসঙ্গে চালিয়ে যেতে পারে। এআইইউবিতে ইতিমধ্যে দুটি স্কলারশিপের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও এমন স্কলারশিপ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে রুট লেভেলের খেলোয়াড়রা সুযোগ পায়।

এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে প্রস্তুতি কতটা এগিয়েছে?

কাজী সাইফুল : বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) থেকে এখনো কোনো অর্থায়ন না পেলেও আমরা প্রায় দেড় মাস আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছি। এশিয়ান গেমসে তিনজন ফেন্সার ও একজন কর্মকর্তা অংশ নেবেন।

দক্ষিণ এশীয় গেমসের জন্য আপনারা কী ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছেন?

কাজী সাইফুল : গত বছর সম্ভাব্য সাউথ এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে আমরা প্রায় সাড়ে চার মাস প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালিয়েছিলাম। প্রায় ৫০ জনকে নিয়ে ক্যাম্প করা হয়েছিল, যেখান থেকে ৩৫ জনের একটি শক্তিশালী দল তৈরি হয়।

পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় আগামী দক্ষিণ এশীয় গেমসে বাংলাদেশের লক্ষ্য কী?

কাজী সাইফুল : ফাতেমা মুজিব অতীতে আমাদের একটি স্বর্ণপদক এনে দিয়েছেন। এখন আমরা নতুন প্রজন্মের ফেন্সার তৈরি করছি। বিদেশি, বিশেষ করে ইরানের অভিজ্ঞ কোচ এনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, আগামী দক্ষিণ এশীয় গেমসে শুধু একটি নয়, তিন থেকে চারটি স্বর্ণপদক জয়ের সামর্থ্য বাংলাদেশের রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত