সিংগাইরে ৪ সড়কই মরণফাঁদ

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৫ এএম

সংস্কারের অভাবে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চারটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এখন জনদুর্ভোগের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কগুলো যেন একেকটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। কোথাও পিচ ও খোয়া উঠে সৃষ্টি হয়েছে বিশাল বিশাল গর্ত, আবার কোথাও সামান্য বৃষ্টিতেই জমছে পানি ও কাদা। কিছু সড়কে সংস্কারকাজ শুরু হলেও অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। এর ফলে প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, চাকরিজীবী ও রোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, খানাখন্দের কারণে যাতায়াতের সময় ও খরচ দুটিই দ্বিগুণ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা; সড়কে গাড়ি চলতে না চাওয়ায় অতিরিক্ত পরিবহন খরচ দিয়ে তাদের কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে হচ্ছে। এ ছাড়া জরুরি মুহূর্তে মুমূর্ষু রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে স্বজনদের পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় ভোগান্তি। বর্ষা মৌসুমে এই পরিস্থিতি আরও প্রকট আকার ধারণ করে। স্থানীয়দের দাবি, সড়কে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি ভারী যানবাহন চলাচল এবং অতীতে নিম্নমানের সংস্কারকাজের কারণেই সড়কগুলোর আজ এই দশা।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সড়কগুলোর মধ্যে অন্যতম বাংগালা বাজার থেকে মাটিকাটা পর্যন্ত সড়কটি। উপজেলার জামশা ইউনিয়নের বাংগালা বাজার থেকে মাটিকাটা পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হওয়ার পর অভিযোগের মুখে বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২৩ সালের নভেম্বরে কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নির্মাণ প্রকৌশলী। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের এপ্রিলের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল।

কাজ শুরুর পর সড়কের দুই পাশের এজিংয়ে পুরনো ইটের সঙ্গে নতুন ইট ব্যবহার করে ব্রিক স্যালভেজ করার অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। পরে অভিযোগটি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) গেলে সংস্কারকাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পটির কাজ আর শুরু হয়নি। ফলে সড়কটির বিভিন্ন অংশে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। বর্ষায় এসব গর্তে পানি জমে চলাচলে দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।

অপরদিকে মানিকনগর থেকে সিরাজপুর অংশের প্রায় ১১ কিলোমিটার সড়কের অধিকাংশ জায়গায় পিচ, ইট, বালু ও সুরকি উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

সিংগাইর উপজেলা প্রকৌশলী মো. গোলাম সামদানী বলেন, ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে যেসব কাজ বন্ধ রয়েছে, সেগুলো দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সঙ্গে করা টেন্ডার ও চুক্তি বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বন্ধ থাকা প্রকল্পগুলো পুনরায় টেন্ডারের মাধ্যমে বাস্তবায়নেরও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মানিকগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জামাল উদ্দিন বলেন, জেলায় অনেকগুলো সড়ক সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ক্ষয়ক্ষতি আরও বেড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো পর্যায়ক্রমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। চলতি বছর জেলার গুরুত্বপূর্ণ ও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর সংস্কারকাজ পর্যায়ক্রমে শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত বলেন, ‘জনগণের ভোগান্তি লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত