হিলিতে দেশীয় কাঁচামরিচের দাম কমে ৬০ টাকায় নেমেছে খুশি নিম্ন আয়ের মানুষজন

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম

বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে দেশে কাঁচামরিচ আমদানি অব্যাহত থাকায় ও দেশীয় কাঁচামরিচের সরবরাহ বাড়ায় দুদিনের ব্যবধানে দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে দেশীয় কাঁচামরিচের দাম আরেক দফা কমে ৬০ টাকায় নেমেছে। কাঁচামরিচের দাম কমায় খুশি নিম্ন আয়ের মানুষজন। সরবরাহ এমন থাকলে দাম বাড়বে না বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

হিলি বাজার সুত্রে জানা গেছে, দুদিন আগেও প্রতি কেজি দেশীয় কাঁচামরিচ ৯০ থেকে ১শ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। বর্তমানে তা কমে মাত্র ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এর আগের সপ্তাহে যা ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল। এর আগে দাম বাড়তে বাড়তে ২৮০ টাকা কেজি উঠে গিয়েছিল দেশীয় কাঁচামরিচের দাম।

হিলি বাজারে কাঁচামরিচ কিনতে আসা ইয়াসিন আলী বলেন, হঠাৎ করে কাঁচামরিচের যে ঝাঁজ বেড়ে গিয়েছিল তাতে করে আমাদের মত সাধারন মানুষদের কাঁচামরিচ খাওয়ায় বাদ দিতে হয়েছিলো বাড়তি দামের কারনে। দাম বাড়তে বাড়তে ৬০ থেকে ৭০টাকা কেজির কাঁচামরিচ ২৮০ টাকায় উঠে গিয়েছিল। বাধ্য হয়ে আমাদের ক্রয়ের পরিমান কমাতে হয়েছিল প্রয়োজনের অর্ধেক কিনতে হচ্ছিল।

বর্তমানে ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি হওয়ায় দেশীয় কাঁচামরিচের ঝাঁজ অনেকটাই কমে এসেছে। দুদিন আগেও যে কাঁচামরিচ ৯০ থেকে ১শ টাকা কেজি দরে কিনেছিলাম। সেই কাঁচামরিচ এখন ৬০ টাকায় নেমেছে। এতে করে আমাদের মত মানুষদের সুবিধা হয়েছে। এখন যতটুকু চাহিদা সেই মোতাবেক কিনতে পারছি। দাম যেন এমনই থাকে সেই দাবি আমরা জানাচ্ছি।

কাঁচামরিচ কিনতে আসা নারগিস আকতার বলেন, হঠাৎ করেই কাঁচামরিচের দামে কিন্তু আগুন লেগে গিয়েছিল। দাম বাড়তে বাড়তে ২৮০ টাকা কেজি উঠে গিয়েছিল। আবার যেই ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হয় তেমনি দাম কমতে শুরু করেছে। এখন কিন্তু ঠিকই ৬০ টাকা কেজিতে দেশীয় কাঁচামরিচের দাম নেমে এসেছে। এতে করে আমাদের কিনতে সুবিধা হচ্ছে আগে যে দামে আড়াইশো কাঁচামরিচ কিনতাম এখন সেই টাকায় এক কেজি কিনতে পারছিল। তবে হঠাৎ করে কেন কাঁচামরিচের দাম বেড়ে উদ্ধমুখি হয়ে গিয়েছিলো বাজারে তো এখন দেশীয় কাঁচামরিচের সররবাহ বেশ ভালোই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর পেছনে ব্যবসায়ীদের কোন কারসাজি আছে কিনা সেগুলো তদারকি করা দরকার।

হিলি বাজারের কাঁচামরিচ বিক্রেতা বিপ্লব শেখ বলেন, বৈরি আবহাওয়া ঝড় ও বৃষ্টির কারনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কাঁচামরিচের ক্ষেত নষ্ট হয়ে এর উৎপাদন ব্যাহত হয়েছিল। ফলে বাজারে কাঁচামরিচের চাহিদা মোতাবেক সরবরাহ কমায় দাম উদ্ধমুখি হতে শুরু করেছিল। আমাদের বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছিল সেই মোতাবেক বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছিল। সরকার দাম কমাতে ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি দেওয়ায় বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচামরিচ আমদানি অব্যাহত রয়েছে।

ফলে দেশীয় কাঁচামরিচের পাশাপাশি আমদানিকৃত কাঁচামরিচের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমে এসেছে। সেই সাথে আবহাওয়া আগের তুলনায় ভালো হওয়ায় দেশীয় কাঁচামরিচের সরবরাহ আগের তুলনায় বেড়েছে এর ফলে দামের উপর প্রভাব পড়েছে। আমদানি অব্যাহত থাকলে সরবরাহ বাড়ার সাথে সাথে দাম আরো কমতে পারে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তর দিনাজপুরের সহকারি পরিচালক বোরহান উদ্দিন বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রনে রাখতে আমরা নিয়মিতভাবে বাজার মনিটরিং করছি। ব্যবসায়ীরা কি দামে পণ্য কিনছেন বা বিক্রি করছেন তার ম্যামো যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। কারো বিরুদ্ধে বাড়তি দাম নেওয়ার বিষয়টি প্রমানিত হলে আর্থিক জরিমানা করা হচ্ছে। জনস্বার্থে আমাদের সংস্থার পক্ষ থেকে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত