চট্টগ্রামে ৬ ওয়ার্ডের ৯২ স্থানে মিলল এডিস মশার লার্ভা

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে পরিত্যক্ত ভবন, বাদ যায়নি নির্মাণাধীন ভবনও। চট্টগ্রাম নগরীর ৬টি ওয়ার্ডে তল্লাশি চালিয়ে এমন ৯২টি প্রজননস্থল চিহ্নিত করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)।

সাধারণ নালা-নর্দমার বাইরে নগরীর জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ এসব স্থাপনায় জমে থাকা পানিই এখন এডিস মশার বংশবৃদ্ধির প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এতে আশপাশের বাসিন্দাদের ডেঙ্গু আক্রান্তের ঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছে।

চসিকের ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাম্প্রতিক এই জরিপে দেখা যায়, চিহ্নিত ৯২টি স্পটের মধ্যে অন্তত ১১টি নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। চট্টগ্রাম কলেজ, হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ ও সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের মতো বড় বড় শিক্ষা প্রাঙ্গণের পাহাড়ি ঢাল, ঝোপঝাড় ও নিচু জমে থাকা পানিতে মিলছে এডিসের লার্ভা। প্রতিদিন হাজার হাজার শিক্ষার্থী এসব ক্যাম্পাসে যাতায়াত করায় বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী প্রজননস্থল থাকার কথা স্বীকার করে জানান, গাছপালা বেশি থাকায় পানি জমে ক্ষেত্র তৈরি হলেও তা পরিচ্ছন্ন করতে নিয়মিত কার্যক্রম চলছে।

এই অনিয়ন্ত্রিত প্রজননস্থল থেকে বাদ পড়েনি সংবেদনশীল আবাসন এলাকাও। চকবাজার ওয়ার্ডের পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের পারিবারিক বাসভবন ‘নিরিবিলি’র অব্যবহৃত নিচতলায় দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় তা এডিসের প্রজননস্থলে পরিণত হয়।

জরিপের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মশার এই ডেরা সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে, যেখানে একাই ৩১টি প্রজননস্থল চিহ্নিত হয়েছে। এছাড়া জালালাবাদে ২২টি, পাঁচলাইশে ১৫টি, চকবাজার ও পশ্চিম বাকলিয়ায় ১০টি করে এবং পাথরঘাটায় ৪টি স্পট পাওয়া গেছে। তালিকায় এসব এলাকার ৪টি নির্মাণাধীন ভবন ও বেশ কিছু পরিত্যক্ত ভবনকে মশার স্থায়ী বংশবৃদ্ধির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, চট্টগ্রামে জুলাই ও আগস্ট মাসে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব তীব্র রূপ নেয়। চলতি বছরের বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ১ হাজার ৫৩৩ জনের মধ্যে কেবল জুলাই ও আগস্ট মাসেই আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৩৫ জন, যা মোট আক্রান্তের ৮০ শতাংশের বেশি। এ বছর জেলায় ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

চসিকের ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম মাহি দেশ রূপান্তরকে বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ নগরীর যে আটটি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর জন্য অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল, তার মধ্যে ছয়টি ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রজননস্থল খুঁজতে বিস্তৃত জরিপ চালানো হয়। বাকি দুটি ওয়ার্ডেও পর্যায়ক্রমে জরিপ করা হবে।

তিনি বলেন, চিহ্নিত ৯২টি স্পটের মধ্যে ইতিমধ্যে ৭০টি স্থান সম্পূর্ণ পরিষ্কার করা হয়েছে এবং বাকিগুলোতে ওষুধ ছিটিয়ে মশার বিস্তার ঠেকানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে চসিকের কার্যক্রমের পাশাপাশি ভবন মালিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ নাগরিকদের নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কারে এগিয়ে আসতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত