সিলেটে তিন খুন: আদালতে বাবুলের স্বীকারোক্তি

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৩ পিএম

সিলেট মহানগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার নিকুঞ্জ ভিলায় বৃদ্ধ দম্পতি ও তাদের গৃহকর্মীকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামি বাবুল মিয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

চারদিনের রিমান্ড শেষে বাবুল মিয়াকে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার আদালতে হাজির করা হয়। এসময় বাবুল মিয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিতে সম্মত হন। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তার জবানবন্দী রেকর্ড করা হয় বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির।

ওসি জানান, চার দিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় বাবুল মিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়। এসময় বাবুল মিয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিতে আগ্রহ প্রকাশ করে। পরে ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানা তার জবানবন্দী রেকর্ড করেন।

আসামি বাবুল মিয়া রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার আখতার মিয়ার কলোনির বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত নূর মিয়া।

উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসায় তিনজনকে হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ওই বাসার মালিক মো. আবদুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনা বেগম (১৫)।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পরপরই ওই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার একটি কলোনিতে অভিযান চালিয়ে বাবুল মিয়াকে (৪০) আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল মিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিও পরদিন উদ্ধার করে পুলিশ। গৃহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্কের জের ধরে বাবুল মিয়া তিনজনকে খুন করেছে বলে পুলিশকে জানায়।

তবে নিহত দম্পতির যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী ছেলেমেয়ে দেশে ফিরে এ ব্যাপারে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় দায়েরকৃত মামলায় হত্যাকাণ্ডের পেছনে মামলা ও ভূমি সংক্রান্ত বিরোধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের লোকজন ও সরাসরি হত্যায় জড়িত লোকজনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত