চায়ের দোকানে এইচএসসির উত্তরপত্র মূল্যায়ন, শিক্ষক আটক

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম

সিলেটে বন্ধুদের সঙ্গে একটি চায়ের দোকানে বসে চলমান এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের অভিযোগে এক শিক্ষককে হাতেনাতে আটক করেছে শিক্ষা বোর্ড। এ সময় তার কাছ থেকে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের ৪০০টি উত্তরপত্র জব্দ করা হয়।

শনিবার (১ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রধান ফটকসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন সোহান সিলেট মেট্রোসিটি ওমেন্স কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক এবং সিলেট শিক্ষা বোর্ডের নিযুক্ত পরীক্ষক। তিনি শাবিপ্রবির বাংলা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী।

শিক্ষাবোর্ড, পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীসূত্র জানায়, ইকবাল হোসেন সোহান বন্ধুদের সঙ্গে চা পান করতে করতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তার সঙ্গে থাকা আরও দুই বন্ধুও খাতা মূল্যায়নে অংশ নেন। উত্তরপত্রগুলো একটি বস্তায় রাখা ছিল। খবর পেয়ে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা পুলিশসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৪০০টি উত্তরপত্র জব্দ করেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে থানায় নিয়ে যান। 

সিলেট জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে নিয়ে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান থানায় আসেন। এ ব্যাপারে শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়েছে। পরে ওই শিক্ষককে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের হেফাজতে দিয়ে দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শিক্ষক ইকবাল হোসেন সোহান বলেন, সেখানে কোনো খাতা মূল্যায়ন করা হয়নি। সেগুলো আগেই দেখা হয়েছে। মূল্যায়ন করা খাতাগুলো কুরিয়ার সার্ভিসে পাঠানোর জন্য নিয়ে যাওয়ার পথে দোকানে বসে গুছিয়ে নিচ্ছিলাম।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, শুক্রবার রাতেও একই দোকানে বসে প্রভাষক ইকবালসহ চারজন উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেছিলেন।
ইকবাল হোসেন সোহানের সঙ্গে ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আইরিন লিনজা। তিনি বলেন, যার খাতা তিনিই দেখছিলেন। তিনি আমার বন্ধু-ব্যাচমেট। আমিসহ এক্স সাস্টিয়ানরা সেখানে ছিলাম। তবে খাতা দেখার সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

এ ব্যাপারে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন বলেন, খবর পেয়ে আমরা ওই চায়ের দোকানে গিয়ে খাতা দেখা অবস্থায় ওই পরীক্ষককে ধরি। সেখান থেকে ৪০০ খাতা জব্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত