বয়স্কদের নিউমোনিয়া ও ফুসফুসের যত্ন

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৬, ১২:১০ এএম

নিউমোনিয়া ফুসফুসের একটি অত্যন্ত তীব্র ও বিপজ্জনক সংক্রমণ। সাধারণত শিশুদের রোগ হিসেবে ভাবা হলেও প্রাপ্তবয়স্ক ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই রোগটি জীবনঘাতী রূপ নিতে পারে। ফুসফুসের বায়ুথলিতে জীবাণুর সংক্রমণে সেখানে পুঁজ ও তরল জমে বাতাস চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে। চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়মিত এমন অনেক প্রবীণ (৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়স্ক) রোগী পাই, যারা সাধারণ ঠান্ডা-কাশি মনে করে নিউমোনিয়াকে অবহেলা করে জটিল অবস্থায় আসেন।

বয়স্কদের নিউমোনিয়ার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকের সংক্রমণ। এ ছাড়া ধূমপান, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগ (যেমন সিওপিডি বা অ্যাজমা), হৃদরোগ এবং শরীরের দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এ রোগের প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে কাঁপুনিসহ তীব্র জ্বর, বুকের এক পাশে বা উভয় পাশে সুচ ফোটার মতো তীব্র ব্যথা, যা গভীর শ্বাসের সময় বা কাশির সঙ্গে বাড়ে। পাশাপাশি সবুজ বা হলুদ রঙের ঘন কফসহ কাশি, অতিরিক্ত ক্লান্তি, বিভ্রান্তি বা মানসিক অস্থিতিশীলতা এবং শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। প্রবীণদের ক্ষেত্রে অনেক সময় তীব্র জ্বর না থেকেও কেবল অতিরিক্ত দুর্বলতা ও বিভ্রান্তি নিউমোনিয়ার বড় লক্ষণ হতে পারে।

নিউমোনিয়া সময়মতো শনাক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। বুকের এক্স-রে এবং রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসকের নির্দেশমতো সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ গ্রহণ করতে হয়। গুরুতর শ্বাসকষ্ট হলে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে অক্সিজেন দেওয়া আবশ্যক। প্রতিরোধই নিউমোনিয়া মোকাবিলার সেরা উপায়। ধূমপান পুরোপুরি ত্যাগ করুন। প্রবীণ (৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়স্ক) এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে (ডায়াবেটিস, সিওপিডি, অ্যাজমা) আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য নিউমোকোকাল ও ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, ধুলাবালি এড়ানো এবং শীতকালে অতিরিক্ত ঠান্ডা থেকে বেঁচে থাকা উচিত।

বয়স্কদের শ্বাসকষ্ট বা তীব্র কাশিকে কখনোই অবহেলা করবেন না। লক্ষণ দেখা মাত্রই বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হোন এবং সময়মতো সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করে জীবন বাঁচান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত