ঢাকা টু দুবাই

এক দম্পতির স্বপ্নপূরণের গল্প

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৬, ০২:০২ এএম

ব্যবসার মূল ভিত্তি কেবল মুনাফা অর্জন নয়, তার সঙ্গে যদি একটি অর্থপূর্ণ সামাজিক উদ্দেশ্য যুক্ত হয়, তবে তা মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে। এই দর্শনকে ধারণ করেই প্রযুক্তির বিশাল বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাইয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়কে যুক্ত করার সাহসী উদ্যোগ নিয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা মোহাম্মদ হাসান এবং তার সহধর্মিণী ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা। তাদের গড়ে তোলা প্ল্যাটফর্ম ‘বেচাকেনা’ আজ প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বিশ^বাজারের সঙ্গে সেতুবন্ধন তৈরি করে দিচ্ছে। পুরো নাম হাসানের এই যাত্রার বীজ বপন হয়েছিল ছাত্রজীবনে। সাইবার ক্যাফেতে ২০ টাকা খরচ করে ইন্টারনেট ব্রাউজ করার দিনগুলোতেই তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, প্রান্তিক পরিবারের সন্তানদের জন্য একটি নিজস্ব কম্পিউটার কতটা বড় বাধা। আজকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের যুগে একটি ল্যাপটপ কোনো বিলাসিতা নয়, বরং অর্থনৈতিক মুক্তির প্রধান হাতিয়ার। দেশের তরুণদের আন্তর্জাতিকমানের স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পথ সহজ করতে তারা দুবাইয়ের গ্লোবাল সোর্সিং থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত ব্যবহৃত ল্যাপটপ ও গ্যাজেট সরবরাহ শুরু করেন। ব্যবহৃত পণ্যের ভয় দূর করতে তারা গড়ে তুলেছেন দক্ষ কিউসি টিম এবং চালু করেছেন ‘বেচাকেনা স্মার্ট প্রোটেকশন’, যা গ্রাহকদের সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত পণ্যের সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয়।

তবে উদ্যোগটি কেবল ডিভাইস বিক্রির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, রূপ নিয়েছে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়নে। ‘বেচাকেনা’ অ্যাপের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার মতো আন্তর্জাতিক সোর্সিং পয়েন্টের সঙ্গে বাংলাদেশের জেলা শহরের সংযোগ ঘটিয়েছেন তারা। এর ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন ব্যবসায়ী অল্প ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল নিয়েই রাজধানী ঢাকার বড় ব্যবসায়ীদের মতো সমান মূল্যে সরাসরি দুবাই থেকে পণ্য সংগ্রহ করে নিজের প্ল্যাটফর্মে বিক্রি করতে পারছেন। এতে প্রযুক্তির ভৌগোলিক দূরত্ব এক নিমেষেই মুছে গেছে।

এই সফলতার পেছনের পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। বাংলাদেশে দীর্ঘ আট বছর শিক্ষকতা করা হাসানের সহধর্মিণী দুবাই সেন্ট্রাল স্কুলে চাকরি নেওয়ার পর একটি সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। শারীরিক প্রতিকূলতা এবং দুজনের যৌথ স্বপ্নের টানে তিনি স্বামীর সঙ্গে ব্যবসায় যুক্ত হন। শুরুতে গন্তব্যে পৌঁছাতে ৫০ দিরহামের প্রয়োজন থাকলেও পকেটে হয়তো ছিল মাত্র ৩০ দিরহাম। সেই টানাটানির দিনগুলো পেরিয়ে পারস্পরিক আস্থা, কাজের স্বচ্ছতা এবং পারিবারিক সমর্থনে আজ তারা নিজেদের শক্ত অবস্থানে দাঁড় করিয়েছেন।

১০ থেকে ১২ হাজার টাকার মধ্যে একজন শিক্ষার্থীর হাতে ল্যাপটপ পৌঁছে দেওয়ার এই মিশন এখন আরও বড় লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে চলেছে। অদূর ভবিষ্যতে চীন ও ইউরোপ থেকে নিজস্ব ব্র্যান্ডের প্রযুক্তিপণ্য ম্যানুফ্যাকচারিং করে আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়ে যাওয়াই এই স্বপ্নবাজ দম্পতির চূড়ান্ত গন্তব্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত