লেখালেখি শুধু শব্দের বিন্যাস নয়; এটি সমাজের বিবেককে জাগ্রত করার এক শক্তিশালী মাধ্যম। একটি সুন্দর, মানবিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গঠনে সচেতন লেখকের ভূমিকা অপরিসীম। সেই বিশ্বাস থেকেই তরুণ লেখকদের সাহিত্যচর্চা ও সৃজনশীল লেখালেখিকে উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় শাখা আয়োজন করে ‘বার্ষিক লেখক সম্মাননা-২০২৬’। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। উদ্বোধনী শুভেচ্ছা বক্তব্যে শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউস সানি জোহা লেখালেখির মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রত্যয়ে সংগঠনের কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং নতুন প্রজন্মকে সাহিত্যচর্চায় আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি রুখসানা খাতুন ইতি, তারুণ্যের সভাপতি ইমন হোসেন, জিয়া হল ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি শোয়াইব বিন আছাদসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শাখা কমিটির সদস্য, সহযোগী সদস্য, লেখক ও সাংবাদিকরা। তাদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুখসানা খাতুন ইতি বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের ধারাবাহিক উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের সম্মাননা তরুণদের আরও দায়িত্বশীল ও সমাজমুখী লেখালেখিতে উৎসাহিত করবে।
সভাপতির বক্তব্যে শাখা সভাপতি মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হোক লেখনীর ধারায়’ এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে ফোরাম দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্ব ছিল সম্মাননা প্রদান। ২০২৫-২৬ কার্যবর্ষের বর্ষসেরা লেখক হিসেবে মোজাহিদ হোসেন, বর্ষসেরা সংগঠক হিসেবে ফারদিন মোহাম্মদ, সেরা টিম লিডার হিসেবে আফিয়া আলম, উদ্যমী সংগঠক হিসেবে হাবিব আল মিসবাহ এবং উদ্যমী কর্মী হিসেবে আবু হামজাকে ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি মাসিক সেরা লেখক, মাসিক সেরা চিঠি লেখক, বিদায়ী সদস্য এবং ২০২৪-০২৫ ও ২০২৫-২৬ কার্যবর্ষের কার্যনির্বাহী পর্ষদের সদস্যদেরও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
সম্মাননা গ্রহণের মুহূর্তে বিজয়ীদের উচ্ছ্বাস এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ে পুরো মিলনায়তন উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। শুধু পুরস্কার বিতরণ নয়, এই আয়োজন ছিল তরুণ লেখকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা, স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যতের প্রতি আস্থার এক প্রতীক।
লেখক : শিক্ষার্থী, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়