ছাদবাগানে আনার চাষে সফল মনোজিৎ

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৭ এএম

আনারের বৈজ্ঞানিক নাম Punica granatum, ইংরেজি নাম pomegranate। এটি Lythraceae পরিবারের Punica  গণের অন্তর্ভুক্ত ফলের গাছ। হিন্দুস্তানি, ফার্সি ও পশতু ভাষায় একে আনার বলা হয়। কুর্দি ভাষায় হিনার এবং আজারবাইজানি ভাষায় একে নার বলা হয়। সংস্কৃত এবং নেপালি ভাষায় বলা হয় দারিম। বাংলাদেশের অনেক স্থানে এটি বেদানা নামেও পরিচিত। পাঞ্জাব ও কাশ্মীরেও এ ফলকে বেদানা বলে। বেদানা, আনার বা ডালিম এক রকমেরই ফল। বেদানা আকারে ডালিমের চেয়ে অনেক ছোট এবং মিষ্টি স্বাদের।

এই আনারের চাষ করেই মনোজিৎ কুমার সচ্ছলতার মুখ দেখতে শুরু করেছেন। ঝিনাইদহের হরিণাকু-ু উপজেলার হিজলি গ্রামের মনোজিৎ কুমার এক সময় জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমিয়েছিলেন প্রবাসে। দীর্ঘদিন প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে আর বসে থাকেননি মনোজিৎ কুমার। নিজের বাড়ির ছাদকে কাজে লাগিয়ে শুরু করেন আনার চাষ। পরিচর্যা ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় সেই ছাদ বাগানেই এখন ফলন দিচ্ছে আনার গাছ। মনোজিতের এই উদ্যোগ দেখে স্থানীয় অনেকেই ছাদে ফল ও সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। প্রবাস থেকে ফেরার পর বাড়ির অব্যবহৃত ছাদকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, এমন চিন্তা থেকেই শুরু হয় আনার চাষের উদ্যোগ। টব ও উপযুক্ত মাটির মিশ্রণে আনার গাছ লাগিয়ে নিয়মিত পরিচর্যা করতে থাকেন তিনি। গাছের বৃদ্ধি ও ফলন দেখে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তার আগ্রহ। বর্তমানে ছাদজুড়ে সারি সারি আনার গাছ। অপরূপ সুন্দর গাছগুলোতে ফুল ও ফল ধরায় ছাদ বাগানের সৌন্দর্যও বেড়েছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, লালচে-গোলাপি আনার ফলে নুয়ে পড়েছে গাছের ডাল। কোথাও ডালে ডালে পাকা ফলের ভার। কোথাও আবার ফুটে আছে টকটকে লাল ফুল। যেন ছাদের ওপরই প্রকৃতি এঁকেছে রঙিন এক ক্যানভাস। সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলে থাকা আনার আর লাল ফুলের মেলবন্ধনে পুরো ছাদজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। বিদেশে দীর্ঘদিন কর্মজীবন শেষে দেশে ফিরে তিনি গড়ে তুলেছেন এমন একটি ব্যতিক্রমী এই আনার বাগান। বর্তমানে তার বাগানে ৩৩টি আনার গাছ রয়েছে। এবার গাছগুলোতে দ্বিতীয় বারের মতো ফল ধরেছে। প্রতিটি গাছে ২০ থেকে ২৫টি করে ডালিম শোভা পাচ্ছে। যা ছাদ বাগানটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

কোথাও আবার ফুটে আছে টকটকে লাল ফুল। মনোজিতের এই বাগান দেখে অনেকে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন আনার বাগান করতে। পাশাপাশি পরিবারের চাহিদা মেটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে এ চাষ সম্প্রসারণের স্বপ্ন দেখছেন মনোজিৎ। তার ছাদ বাগানে অস্ট্রেলিয়ান বিগ, থাই, রিমন, মেক্সিকান, মৃদুলাসহ ১১টি জাতের আনার গাছ রয়েছে।

হিজলি গ্রামের বিল্লাল হোসেন জানান, শহরাঞ্চলে কৃষি জমি কমে যাওয়ার কারণে বাড়ির ছাদকে কাজে লাগিয়ে ফল ও সবজি চাষের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। এতে এক দিকে যেমন নিরাপদ খাবারের উৎস তৈরি হতে পারে, অন্যদিকে অব্যবহৃত ছাদও উৎপাদনমুখী কাজে ব্যবহার করা সম্ভব। ছাদ বাগানে আনার চাষের এই সফলতা এখন ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশে। তার দেখাদেখি অনেকেই নিজেদের বাড়ির ছাদকে কৃষি কাজের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছেন। মনোজিৎ কুমার জানান, দেশে ফিরে অবসর সময়কে কাজে লাগাতেই ছাদে আনার চাষ শুরু করেন। শুরুতে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে উৎসাহ দিলেও সফলতা আসবে কিনা তা নিয়ে সংশয় ছিল। তবে ধীরে ধীরে গাছে ফল আসায় সেই সংশয় কেটে গেছে। এখন আশপাশের অনেকেই তার ছাদ বাগান দেখতে এসে চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইছেন। হরিণাকুন্ডু উপজেলা

কৃষি কর্মকর্তা শরীফ মোহাম্মদ তিতুমীর জানান, পরিকল্পিতভাবে ছাদ বাগান গড়ে তুললে পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পরিবেশও কিছুটা সবুজ রাখা সম্ভব। মনোজিতের এ উদ্যোগ অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠছে। মনোজিতের ছাদ বাগান তৈরিতে সহযোগিতা করছে হরিণাকুন্ডু কৃষি বিভাগ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত