'ব্রাজিল-বাংলাদেশ ম্যাচের জন্য সরকার টাকা খরচ করতে চায় না,' জানালেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম
দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বড় আলোচনা এখন পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল দলের বাংলাদেশ সম্ভাব্য সফর নিয়ে। ইতিমধ্যেই ব্রাজিল ফুটবল দলের একটি প্রতিনিধি দল রাজধানীসহ দেশের দুটি ভেন্যু পরিদর্শন করে বাফুফেকে কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হলেও বিশাল ব্যয়ভার এবং দেশের ফুটবলে এর প্রকৃত প্রভাব নিয়ে তৈরি হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
 
আজ এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ব্রাজিলের সম্ভাব্য আগমন, অর্থায়ন ও দেশের ফুটবলে এর কার্যকারিতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক জাতীয় অধিনায়ক আমিনুল হক। তিনি জানান, 'বিষয়টি (ব্রাজিলের আসা) একদমই প্রাথমিক পর্যায়ে। আদৌ ব্রাজিল টিম বাংলাদেশে আসবে কিনা, সে বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত একচুয়াল ক্লিয়ার কোনো মেসেজ নেই।' বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে প্রাথমিক কথা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সফর ও ব্যয়ের আনুষঙ্গিক বিবরণ হাতে পাওয়ার পর সরকার এর বাস্তবায়ন নিয়ে চিন্তাভাবনা করবে।
 
বাংলাদেশে বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ব্রাজিল সমর্থকদের যে আবেগ ও উদ্দীপনা দেখা যায়, সেটিকে মাথায় রেখে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ব্রাজিল টিম যদি বাংলাদেশে আসে এবং আমাদের দলের সাথে খেলে, তবে এটি বাংলাদেশের জন্য একটি অনেক বড় অর্জন হবে। সমর্থক ও ফুটবলপ্রেমীদের এক বিশাল স্বপ্নপূরণ হবে এবং তারা দারুণ আনন্দিত হবেন।”
 
তবে দর্শক উন্মাদনা তৈরি হলেও ব্রাজিল ম্যাচ দিয়ে দেশের ফুটবলের রাতারাতি কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ব্রাজিল টিম খেলে গেলেই যে বাংলাদেশের ফুটবলের আমূল পরিবর্তন আসবে, এই বিষয়টির সাথে আমি একমত না। এর মাধ্যমে ফুটবলের গুণগত কতটুকু উন্নতি হবে, তা নিয়ে আমি খুব বেশি আশাবাদী নই।”
 
ভারতে ব্রাজিলের ম্যাচ আয়োজনে বড় অঙ্কের খরচ ও অভ্যন্তরীণ সমালোচনা, পাশাপাশি দেশে চলমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এক কথায় উত্তর দিলে, এই মুহূর্তে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে এই ধরনের যে অর্থ ব্যয় করে, যেহেতু আমরা নিজেরাই আপনারা জানেন যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি বিভিন্ন সেক্টর নিয়ে আমাদের অনেক বেশি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে, সেই ক্ষেত্রে আমরা একটি ম্যাচকে উপলক্ষ করে সরকারের পক্ষ থেকে এই ধরনের ব্যয় করার মতো মানসিকতা বা এই ধরনের কোনো উপলক্ষ এই মুহূর্তে আমাদের ভিতরে নেই। তাই বাফুফে যদি বিভিন্ন সাইট থেকে  স্পন্সরশিপ এনে সেটাকে পরিপূর্ণতা দিতে পারে, তাহলে হয়তোবা আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা থাকবে।'

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১১ সালে বড় অঙ্কের অর্থ খরচে আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করেছিল বাফুফে। দীর্ঘ দিন পর আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন কোনো দলকে দেশের মাটিতে আনার চেষ্টা ইতিবাচক হলেও, এর পেছনে কোটি কোটি টাকার বিশাল ব্যয়ের বিপরীতে দেশের মূল ফুটবলের স্বার্থ কতটুকু সংরক্ষিত হবে—তা নিয়ে ক্রীড়া বিশ্লেষকদের পাশাপাশি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছে।
×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত