প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ৫ লাখ টাকার অনুদান পেলেন ফাতেমা

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম

অর্থের অভাবে চীনের একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়া নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থী ফাতেমা খানমের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নে নতুন আশার আলো জ্বলেছে। নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুলের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকার অনুদান পেয়েছেন তিনি।

ভবিষ্যতে ফাতেমার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে প্রয়োজন হলে সহযোগিতা করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৭ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় হতে নিজ হাতে ফাতেমার কাছে অনুদানের চেক তুলে দেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, বাগাতিপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের কাঁকফো নতুনপাড়া গ্রামের পিকআপচালক লাভলু খাঁনের মেয়ে ফাতেমা খানম চীনের হেনান প্রদেশের ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হসপিটাল অব ঝেংঝৌ ইউনিভার্সিটিতে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তির সুযোগ পান। তবে প্রায় ৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকার ভর্তি ও প্রাথমিক ব্যয় বহনের সামর্থ্য না থাকায় তার বিদেশে পড়তে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

ফাতেমা ২০২২ সালে জিগরী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসিতে জিপিএ-৫ এবং ২০২৪ সালে টাঙ্গাইলের মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান আদর্শ কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৪.৬৭ অর্জন করেন। পরে আইইএলটিএস সম্পন্ন করে সিএসসিএ-এর মাধ্যমে আবেদন করেন। অনলাইন ভাইভায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তির অনুমোদন পান এবং ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস থেকে শিক্ষার্থী ভিসাও সংগ্রহ করেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, আগামী ৬ থেকে ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চীনে গিয়ে ভর্তি সম্পন্ন করতে হবে। স্বল্প আয়ের পরিবারটির পক্ষে প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছিল না।

ফাতেমা খানম বলেন, আজকে আমার এবং আমার পরিবারের জন্য খুবই আনন্দের একটি দিন। যা আমি কাউকে বলে বুঝাতে পারব না। অর্থের অভাবে আমার ডাক্তার হওয়ার যে স্বপ্ন সেটা শেষ হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু আজকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমার সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ করে দিয়েছেন। আর এর পিছনে সমস্ত অবদান আমাদের নাটোর-(লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল আপু।

তিনি আরও বলেন, এর আগেও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে আমাকে ২১ দিন আগে ৫০ হাজার টাকা করে তিনটি চেক দিয়েছেন। সেটাও মন্ত্রী পুতুল আপুর কারণেই পেয়েছি। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার আমার ফ্লাইট। তিনি সকলের কাছে দোয়া চেয়ে আরও বলেন, আমি ডাক্তার হয়ে দেশে ফিরে আসতে চাই। দেশ ও এলাকার মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারলেই নিজেকে ধন্য মনে করব।

ফাতেমার মা হাবিবা খানম বলেন, অভাবের কারণে আমি নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারিনি। অনেক কষ্ট করে মেয়েকে লেখাপড়া করিয়েছি। তার স্বপ্ন পূরণে এই সহযোগিতা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। তিনি সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মন্ত্রী পুতুলের এই সহযোগিতা তিনি আজীবন মনে রাখবেন এবং তাকে মেয়ের আসনে রাখবেন।

ফাতেমার বাবা লাভলু খাঁন বলেন, আমরা খুবই আনন্দিত। মেয়ের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এই সহায়তা আমাদের জন্য অনেক বড় আশীর্বাদ। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। বিশেষ করে তিনি নিজের উদ্যোগে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সহযোগিতার ব্যবস্থা করায় প্রতিমন্ত্রী পুতুলের প্রতি তিনি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত