পুরো নাম মাইকেল জোসেফ জ্যাকসন। ভক্তদের অনেকেই তাকে দেখলে উচ্চস্বরে ডেকে ওঠেন ‘মাইকো’ বলে। আর বিশ্ব সংগীতাঙ্গনে তিনি কেবল ‘পপ কিং’। বহুমাত্রিক এই প্রতিভা নানা কারণে এখনও অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও অদ্বিতীয়। মৃত্যুর এতদিন পরেও সংগীত, নৃত্য এবং পপ সংস্কৃতিতে তার প্রভাব আজও অনন্য। তার ‘থ্রিলার’ অ্যালবামটির রেকর্ড এখনও ভাঙতে পারেনি কেউ। এটা এখন পর্যন্ত ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বিক্রিত অ্যালবাম। এছাড়া প্রথম শিল্পী হিসেবে পাঁচটি ভিন্ন দশকে তার গান বিলবোর্ড হট ১০০-এর সেরা দশে জায়গা করে রেখেছে।
১৩টি গ্র্যামি এবং ২৬টি আমেরিকান মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস অর্জন করা এই রকস্টারের গানের সঙ্গে নতুন ঘরানার নাচ আজও মুগ্ধ নয়নে দেখেন সবাই। তার নৃত্যশৈলী বিশ্বজুড়ে এখনও উন্মাদনা ঝড় তোলে দেয় দর্শক-হৃদয়ে। মাইকেল জ্যাকসন শুধু একজন গায়ক বা নর্তক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন বৈশ্বিক আইকন। তার স্টাইল, ফ্যাশন এবং পারফরম্যান্স নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করে চলেছে। আজ ২৯ আগস্ট এই ধ্রুবতারার ৬৮তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৫৮ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ছোটবেলাতেই ভাইদের সঙ্গে গড়ে তোলেন জনপ্রিয় ব্যান্ড জ্যাকসন ফাইভ। সত্তরের দশকের শেষে একক শিল্পী হিসেবে শুরু করেন নতুন যাত্রা।
১৯৮২ সালে প্রকাশিত ‘থ্রিলার’ অ্যালবামটি বিশ্বসংগীতের ইতিহাসে অনন্য রেকর্ড গড়ে। ‘বিলি জিন’, ‘বিট ইট’, ‘স্মুথ ক্রিমিনাল’সহ অসংখ্য গান দিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্মের মন জয় করেন তিনি। শুধু গান নয়, নাচ ও পারফর্ম্যান্সেও বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেন মাইকেল। তার সিগনেচার নাচ ‘মুনওয়াক’ আজও দর্শকদের কাছে সমান জনপ্রিয়। ২০০৯ সালের ২৫ জুন মাত্র ৫০ বছর বয়সে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন তিনি। সুর, নাচ ও অভিনব পরিবেশনার জন্য মাইকেল জ্যাকসন আজও বিশ্বসংগীতে অদ্বিতীয়।