ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসিকে সামনাসামনি একনজর দেখার স্বপ্ন নিয়ে পকেট খালি করে স্টেডিয়ামে হাজির হয়েছিলেন হাজারো ভক্ত। কিন্তু মাঠের ভেতর বিশৃঙ্খলা আর অব্যবস্থাপনার কারণে সেই স্বপ্ন তো ধূলিসাৎ হয়েছিলই, উল্টো তেতো অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছিল হতাশ দর্শকদের।
গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ‘গোট ইন্ডিয়া ট্যুর’-এর সেই বিশৃঙ্খল ঘটনার পর থেকেই টিকিটের টাকা ফেরতের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন ভক্তরা। অবশেষে সেই ভুক্তভোগী দর্শকদের মুখে হাসি ফোটাতে বড় ঘোষণা দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কলকাতার সেই স্মরণীয় বিশৃঙ্খলার শিকার প্রায় ৩৩ হাজার দর্শকের টিকিটের পুরো অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সেদিনের সেই আয়োজনে ৪ হাজার থেকে শুরু করে ৬ হাজার রুপি দিয়ে টিকিট কেটেছিলেন সাধারণ ক্রীড়াপ্রেমীরা। কিন্তু মাঠে অতিরিক্ত ভিড় ও প্রটোকল ভঙ্গের জেরে মাত্র কুড়ি মিনিটেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন মেসি। টিকিট কেটেও নিজ চোখে প্রিয় তারকার দেখা না পাওয়ায় চরম ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন সমর্থকরা।
ভারতের জাতীয় ক্রীড়া দিবস উপলক্ষে শনিবার এক বিশেষ অনুষ্ঠানে সেই বঞ্চনার কথা স্মরণ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তিনি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ও স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "মেসির মতো একজন খেলোয়াড়কে দেখতে গিয়ে কেলেঙ্কারি হয়েছে। মেসির বিরাট জনপ্রিয়তা। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ৬-৮ হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটে প্রতারিত হয়েছে। একজন খাবার সরবরাহকারী কর্মীও সেদিন মেসিকে দেখবেন বলে সারা বছরের জমানো টাকা খরচ করেছিলেন। সেই টাকাও যাতে ফেরত দিতে পারি, আমরা চেষ্টা করছি।’
দর্শকদের অর্থ ফেরতের এই প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পাশাপাশি ওই কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিষয়গুলোও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যুবভারতীর সেই বিশৃঙ্খলার জেরে অতীতে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল এবং বিধাননগর পুলিশের ডেপুটি কমিশনার অনীশ কুমার বরখাস্ত হয়েছিলেন। এমনকি আয়োজক শতদ্রু দত্তকে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবাসও করতে হয়েছিল। যদিও শতদ্রু দত্তের দাবি ছিল এর পেছনে প্রশাসনিক ব্যর্থতাই প্রধান কারণ ছিল। আইনি জটিলতা এবং সাবেক মন্ত্রীদের ঘিরে চলা তদন্তের জল বহুদূর গড়ালেও, সাধারণ মানুষের পকেট থেকে যাওয়া কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত দেওয়ার এই সরকারি উদ্যোগ ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য স্বস্তি বয়ে এনেছে।