ফুটবল মাঠে তিনি যখন নিজের সেরা ছন্দে ধরা দেন, তখন প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার পাশাপাশি ভাষাও যেন হার মানে তার সৌন্দর্যের কাছে। টানা পাঁচ ম্যাচ জয়হীন থেকে খাদের কিনারায় চলে যাওয়া ইন্টার মায়ামিকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলতে ঠিক এমন এক জাদুকরী রাতেই জ্বলে উঠলেন লিওনেল মেসি।
ফ্লোরিডায় মেজর সকার লিগের (এমএলএস) ম্যাচে মন্ট্রিয়লকে স্রেফ ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দুর্দান্ত এক প্রত্যাবর্তন করল আসরের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। আর এই বিশাল জয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে থেকে ক্যারিয়ারের নবম বারের মতো এক ম্যাচে চার গোল বা ‘পোকার’ উপহার দিলেন আর্জেন্টিনার এই মহাতারকা।
ম্যাচের প্রথমার্ধে একবার এবং দ্বিতীয়ার্ধে তিনবার প্রতিপক্ষের জাল কাঁপিয়ে অনন্য এই কীর্তি গড়েছেন ৩৯ বছর বয়সী এই বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ড। দুটি গোল এসেছে নিখুঁত ফ্রি-কিক থেকে, যার একটিতে প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে বল জালে জড়ায় আর অন্যটি হয় যোগ করা সময়ে। এছাড়া মাঝমাঠ থেকে দুর্দান্ত গতিতে তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে করা গোল এবং গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে করা চিপ শটের হ্যাটট্রিকটি মুগ্ধ করেছে পুরো স্টেডিয়ামকে।
শুধু গোলের বন্যা বইয়ে দেওয়াই নয়, লুইস সুয়ারেজকে দিয়ে একটি গোল করিয়ে জয়ে দারুণ অবদানও রেখেছেন রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা। লিগের নিয়মভঙ্গের দায়ে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কারণে ডাগআউটের বাইরে বক্স বসে দলের এই বিধ্বংসী রূপ দেখতে হয়েছিল অন্তর্বর্তীকালীন কোচ গিলের্মো হোয়োসকে।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের বিস্ময় ও মুগ্ধতা লুকাতে পারেননি কোচ হোয়োস। শিষ্যকে প্রশংসায় ভাসাতে গিয়ে ফ্লোরিডার স্টেডিয়ামে বসে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘এমন ফুটবলীয় সৌন্দর্য বর্ণনা করার মতো কোনো ভাষা নেই। এত কিছু ঘটছে যে, ভাষা যেন হার মেনে যায়।’ কোচের এই উপলব্ধি কেবল একটি সাধারণ ম্যাচের জয় ছাপিয়ে মেসির ক্যারিয়ারের অবিস্মরণীয় মহিমাকে ফুটিয়ে তোলে।
পরবর্তীতে কোচের কণ্ঠে আরও গভীর মুগ্ধতা ঝরে পড়ে যখন তিনি যোগ করেন, ‘সে সব সময়ই সেই বিশেষ গোল, সেই জাদুকরী মুভমেন্ট ও সেই নিখুঁত পাসটির খোঁজে থাকে। আমার মনে হয় না সে কোনো সাধারণ ফুটবলার। খেলোয়াড় ও মানুষ উভয় দিক থেকেই তাকে বিশ্লেষণ করতে গেলে এত গভীরে যেতে হয় যে, আপনার ভাষা ফুরিয়ে যাবে।’
মেসির দুই ফ্রি-কিকসহ 'পোকার': ৭-১ গোলের বিধ্বংসী জয় মায়ামির