ভ্যাটফাঁকির চীনা স্টাইল

২১মাসে ৩১৭ কোটি টাকা ফাঁকি দেয়ার তথ্য উদঘাটন, মামলা দায়ের

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম

একটি চীনা কোম্পানি বাংলাদেশে ব্যবসা করে অত্যন্ত সুকৌশলে শত শত কোটি টাকার ভ্যাটফাঁকি দিয়ে চলেছে।

২০২৪ সালের আগস্ট থেকে চলতি ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ২১ মাসে ওই চীনা কোম্পানি সরকারকে ৩১৭ কোটি ৯২ লাখ টাকার ভ্যাট (মুল্য সংযোজন কর বা মুসক) ফাঁকি দিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত শতভাগ চীনা মালিকানাধীন ওই কোম্পানি ব্যাটারি প্রস্তুত করে বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে আসছে। দেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় ব্যাটারি বিক্রির রমরমা ব্যবসা করে আসছে ওই কোম্পানি। 

চলতি আগস্ট মাসের ৩ তারিখে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত পরিদপ্তর (সিআইআইডি) জিওজো ইন্ডাস্ট্রি লি. নামে ওই কোম্পানির তারাবো বিশ্বরোডে অবস্থিত কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিক্রয়ের মুল (প্রকৃত) বাণিজ্যিক নথিপত্র জব্দ করে।

চীনা ভাষায় লিখিত মুল লেজার (বিক্রয়ের নথিপত্র) অনুবাদ এবং সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আজ রবিবার (৩০ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইআইডি জানায়, ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট থেকে শুরু করে গত এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত কোম্পানিটির মুল বিক্রয়মুল্য পাওয়া গেছে ২ হাজার ৪৯৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

কিন্ত ওই ২১ মাসের ভ্যাট হিসেব করতে কোম্পানির পক্ষ থেকে মোট বিক্রয়মুল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ৫৫ কোটি ৮৩ লাখ ৪৩ হাজার ৭৮২ টাকা। ভ্যাট ফাঁকি দিতেই বিক্রয়মুল্যের আরও ২ হাজার ৪৩৭ কোটি ৪২ লাখ ৬০ হাজার টাকার প্রকৃত তথ্য লুকানো হয়। গোপন করা বিক্রয়মুল্যের হিসেবে মোট ভ্যাট ফাঁকির পরিমান ৩১৭ কোটি ৯২ লাখ টাকারও বেশি।

সিআইআইডি জানায়, অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বাণিজ্যিক দলিলাদি ও নথিপত্র জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে জব্দকৃত দলিলাদি বিস্তারিত পর্যালোচনা ও হিসাব-নিকাশ শেষে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি ব্যাটারি উৎপাদন ও বিক্রয়ের বিপরীতে উল্লিখিত পরিমাণ টাকা মূসক ফাঁকি দিয়েছে। সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে তারা প্রকৃত তথ্য গোপন রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। 

কাস্টমস গোয়েন্দা কতৃপক্ষ জানায়, ওই চীনা কোম্পানিটি ১৬ মার্চ ২০২০ সাল থেকে মুসক আইনে নিবন্ধিত। কোম্পানির বিজনেস আইডেনটিফিকেশন নং- ০০২৮১৪৭৭৮-১৪০৫।

এ ব্যাপারে ৩০ আগস্ট জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে অনিয়ম/করফাঁকির মামলা (১৪-২০২৬) দায়ের করা হয়েছে। সিআইআইডি জানায়, এ ঘটনায় রাজস্ব আদায় এবং ভ্যাট আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ও বিচারিক কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। রাজস্ব ফাঁকি রোধে কঠোর নজরদারি এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত