মক্কা জোটে যুক্ত হওয়া নিয়ে ঝুঁকি দেখছে না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, এই চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের সিদ্ধান্তটি মূলত বর্তমান সদস্য দেশগুলোর ইচ্ছা ও আমন্ত্রণের ওপর নির্ভর করছে।

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনায় সৌদি আরব ও তুরস্ক অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির। রোববার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই জোটে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে ঢাকা আপাতত কোনো ঝুঁকি দেখছে না। ঝুঁকি প্রসঙ্গে কিছুটা রসিকতার সুরেই প্রতিমন্ত্রী মন্তব্য করেন, ‘বাঁচার আগে মরার চিন্তা করলে সমস্যা।’

এর আগে গত ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান মক্কা প্যাক্ট বা চুক্তির বিষয়ে সরকারের প্রাথমিক অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত এই আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা চুক্তিটি মূলত মুসলিম বিশ্বের আত্মরক্ষামূলক একটি যৌথ উদ্যোগ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, এই চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের সিদ্ধান্তটি মূলত বর্তমান সদস্য দেশগুলোর ইচ্ছা ও আমন্ত্রণের ওপর নির্ভর করছে। মক্কা চুক্তির তিন সদস্য রাষ্ট্র যদি বাংলাদেশকে এতে অন্তর্ভুক্ত করার আনুষ্ঠানিকভাবে ইচ্ছা প্রকাশ করে, তবে বাংলাদেশ বিষয়টি ইতিবাচক ও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

চুক্তির মূল ধারা অনুযায়ী, কোনো একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর বহিরাগত সশস্ত্র হামলা পরিচালিত হলে তা বাকি সব দেশের ওপর যৌথ আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, এটি মুসলিম বিশ্বের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষার বিষয়, তাই এ নিয়ে অন্য কোনো রাষ্ট্রের উদ্বিগ্ন হওয়ার অবকাশ নেই।

এদিকে একই দিনে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী জানান, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বর্তমানে ‘সর্বোচ্চ পর্যায়ের কৌশলগত’ স্তরে পৌঁছেছে। এই সহযোগিতার অংশ হিসেবে দুই দেশ শিগগিরই যৌথ কূটনৈতিক ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা সংলাপ শুরু করতে যাচ্ছে, যার চূড়ান্ত সময়সূচি দ্রুতই নির্ধারণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত