সংস্কার কর্মসূচিতে যুবসমাজের কার্যকর অংশগ্রহণ নিয়ে মতবিনিময় সংলাপ

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম

গণতান্ত্রিক সংস্কার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুবসমাজের অংশগ্রহণ জোরদারের অঙ্গীকার নিয়ে আজ রবিবার (৩০ আগষ্ট) ঢাকায় ‘মতবিনিময় সংলাপ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তরুণদের অগ্রাধিকার, উদ্বেগ ও সুপারিশ তুলে ধরার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ, জবাবদিহিতা, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষার বিষয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক আলোচনার প্ল্যাটফর্ম তৈরিই ছিল এই সংলাপের মূল লক্ষ্য।

Joining Youth in Effective Engagement in Reform Agendas in Bangladesh (JoYEE) প্রকল্পের আওতায় ভয়েস ও দ্য বাংলাদেশ ডায়ালগ যৌথভাবে ঢাকার ডেইলি স্টার সেন্টারে এই সংলাপের আয়োজন করে।

সংলাপে বাংলাদেশের তরুণদের আকাঙ্খা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে তাদের অর্থবহ অংশগ্রহণের মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধান তুলে ধরা হয়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং পরবর্তী সময়ে গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের দাবির পরও নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাদের আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণের সুযোগ এখনও সীমিত। বিশেষ করে তরুণ নারী অ্যাক্টিভিস্টরা অনলাইন ও বাস্তব জীবনে হয়রানি, হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হচ্ছেন।

প্যানেল আলোচনায় লেখক ও সাংবাদিক এহসান মাহমুদ বলেন, তরুণদের স্বাধীনভাবে কথা বলার এবং অর্থবহভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত না করে একটি গণতান্ত্রিক সমাজকে শক্তিশালী করা সম্ভব নয়। তরুণদের অভিজ্ঞতা ও মতামতকে দায়িত্বশীল ও ন্যায়সংগতভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি তাদের কথা শোনা ও তা বৃহত্তর পরিসরে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে।

মিডিয়া ব্যক্তিত্ব দীপ্তি চৌধুরী বলেন, তরুণরা, বিশেষ করে তরুণ নারীরা, পরিবর্তনের দাবিতে সাহস ও নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন। তাদের অংশগ্রহণের জন্য নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাদের কণ্ঠস্বরকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদ আসলাম বেগ সায়েম বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের কর্মকাণ্ডের জন্য তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে এবং একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়তে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর সুশাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এসব উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সংলাপের সমাপনী বক্তব্যে ভয়েস-এর নির্বাহী পরিচালক ও সংলাপের সঞ্চালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ বলেন, তরুণদের অংশগ্রহণ শুধু পরামর্শ গ্রহণ বা প্রতীকী প্রতিনিধিত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। এমন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা প্রয়োজন, যার মাধ্যমে তরুণরা সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব রাখতে, প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং সংস্কার প্রক্রিয়ায় অর্থবহ ভূমিকা রাখতে পারে।

ভয়েস-এর উপ-পরিচালক মুশাররাত মাহেরা মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে যুবসমাজের অংশগ্রহণের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন।

সংলাপে তরুণ প্রতিনিধি, রাজনৈতিক কর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, অ্যাক্টিভিস্ট, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন অংশীজন অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুবসমাজের অংশগ্রহণ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, নাগরিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষা, তরুণ নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকতর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং তরুণদের সঙ্গে নীতিনির্ধারকদের ধারাবাহিক সংলাপের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

একই সঙ্গে সংস্কার বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং দেশের গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় তরুণদের অর্থবহ অংশগ্রহণের সুযোগ আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত