নারায়ণগঞ্জ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সড়ক ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি বলেছেন, নারায়ণগঞ্জকে মেট্রোপলিটন সিটি করা এবং নারায়ণগঞ্জ জেলাকে ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে ‘এ’ অথবা বিশেষ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করা এটা জনপ্রতিনিধিসহ সকলের দাবি।
নারায়ণগঞ্জকে মাদকমুক্ত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাদকের সঙ্গে যারাই সম্পৃক্ত থাকবে তাদেরকে ছাড় দেওয়া হবে না। রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, মাদকের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত কাউকেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। তাদেরকে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তির আইন প্রণয়নে সরকার কাজ করছে।
একইসঙ্গে নারায়ণগঞ্জে অতীতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও নিপীড়নের ঘটনাগুলো তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং যেসব অস্ত্রের লাইসেন্স দীর্ঘদিন নবায়ন করা হয়নি, সেগুলোও যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জকে মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও সুন্দর একটি জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। যেসব এলাকায় স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা সীমিত, সেখানে র্যাব, বিজিবি, ডিবি ও পুলিশের সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করে মাদকের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে নারায়ণগঞ্জকে মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও নিরাপদ করে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়া। গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে সরকার ইতোমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সময় ও ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কাজ করছেন। আমাদেরকেও সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। অনেকেই সরকারকে প্রশাসনকে বিব্রত করার চেষ্টা করছে। তাদেরকে সরকার কোনোভাবে ছাড় দেবে না।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের এমপি মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূঁইয়া, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি এডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি এডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন, নাসিকের প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সিসহ বিজিবি, র্যাব, কোস্টগার্ড, সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, আইনজীবী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি মাদক, সন্ত্রাস, যানবাহন ও সড়ক নিরাপত্তা, শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় করণীয় নির্ধারণ করা হয়।