অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার টেস্ট সিরিজ জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করলেও ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ দল। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় সাদা পোশাকের বনেদি ক্রিকেট খেলতে গিয়ে প্রথমবার তাদের মাটিতেই অজিদের হারায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ৯ উইকেটে জয় পায় টাইগাররা।
সেদিনের প্রসঙ্গ টেনে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল বলেন, ‘প্রথম টেস্ট ম্যাচেই সবার সঙ্গে দেখা হয়। ম্যাথু হেইডেন, রিকি পন্টিং, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, সাইমন ক্যাটিচ সবার সঙ্গেই দেখা হয়েছে। সবাই বাংলাদেশ দলের প্রশংসা করেছেন। তারা ডারউইনের সাড়ে তিন দিনের ম্যাচ খুব উপভোগ করেছেন। ব্যাটসম্যানদের বল ছেড়ে দেওয়া, আক্রমণাত্মক শট, বোলিং ও ফিল্ডিং তিন বিভাগই রিকি পন্টিং ও হেইডেনরা খুব উপভোগ করেছেন।’
পরে ম্যাকাই টেস্ট হারলেও প্রশংসায় ভাসে বাংলাদেশ দল। এই সংস্করণে সর্বশেষ ৬ ম্যাচের ৫টি জিতেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। মূলত মিরপুরের চিরাচরিত স্পিন-সহায়ক উইকেট পরিবর্তন করার সুফল পাচ্ছেন বলে দাবি আশরাফুলের, ‘আমরা ভালো উইকেটে খেলছি এবং এর কৃতিত্ব ক্রিকেট বোর্ড ও ম্যানেজমেন্টকে দিতে হবে। বিশেষ করে হেড কোচ এবং তিন সংস্করণের অধিনায়করা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, আমরা ভালো উইকেটে খেলব। গত ৯ মাস ধরে ভালো উইকেটে খেলছি বলেই ভালো ফল আমাদের পক্ষে আসছে। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং সব জায়গাতেই আমরা ভালো করছি।’
অস্ট্রেলিয়া সিরিজের পর দেশে ফিরে এখন বিশ্রামে আছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। চলতি মাসের শেষ দিকে এশিয়ান গেমসের সূচি দিয়ে আবার ব্যস্ততা শুরু হবে শান্তদের। তবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা দিতে হবে নভেম্বর-ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকায়। তার আগে অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুটি টেস্ট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ আছে বাংলাদেশের। এই ব্যস্ত সূচিতে নিজেদের পরিকল্পনা নিয়ে আশরাফুল বলেন, ‘কঠিন কন্ডিশনে যেমন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুটি ইনিংসে ভালো করতে পারিনি, ম্যাকায়েও পারিনি। তারপরও আমি বিশ্বাস করি, আমাদের ব্যাটসম্যানরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করবে। যখন আমরা দক্ষিণ আফ্রিকায় যাব, সেখানে যেন ভালো করতে পারি, আগামী কয়েক মাসে সে বিষয়গুলো নিয়েই কাজ করব।’