জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ক্রীড়া ভাতা এবং জাপানে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণের জন্য অর্থ ছাড়ে বিলম্ব নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, প্রয়োজনীয় অর্থ বাজেটে বরাদ্দ থাকলেও নির্ধারিত আর্থিক বিধিবিধান ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে অর্থছাড় করা সম্ভব হচ্ছে না।
শুক্রবার দৈনিক দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত ‘চরম অর্থ সংকটে বিওএ’ খবর প্রকাশের পর তিনটি গেমসে মন্ত্রণালয় থেকে বিওএর পাওনা নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। জাপানের আইচি-নাগোয়া শহরে অনুষ্ঠেয় ২০তম এশিয়ান গেমসের অর্থ ছাড়ে প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) গত ১৬ জুলাই প্রশিক্ষণ ও অংশগ্রহণ খাতে ১০ কোটি টাকা অগ্রিম উত্তোলনের সম্মতি এবং প্রশিক্ষণ, ভ্রমণ ও অংশগ্রহণ খাতে মোট ২৩ কোটি ২৫ লাখ টাকার ব্যয় বিভাজন অনুমোদনের জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠায়। মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে পরে বিস্তারিত ব্যয় বিভাজনসহ সংশোধিত প্রস্তাবও পাঠায় বিওএ। তবে সংশ্লিষ্ট খাতের বরাদ্দ বাজেটে ‘ডাবল স্টার’ চিহ্নিত থাকায় অর্থ ব্যয় এবং অগ্রিম উত্তোলনের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন হয়। এ কারণে বিওএর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৪ আগস্ট ১০ কোটি টাকা অগ্রিম উত্তোলন এবং ২৩ কোটি ২৫ লাখ টাকার ব্যয় বিভাজন অনুমোদনের প্রস্তাব অর্থ বিভাগে পাঠায়।
মন্ত্রণালয় বলছে, সরকারি আর্থিক বিধিবিধান অনুযায়ী সরাসরি ১০ কোটি টাকা অগ্রিম উত্তোলনের সুযোগ নেই। প্রতিটি ব্যয়ের বিস্তারিত বিভাজনের পাশাপাশি এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণের সরকারি আদেশের (জিও) কপিসহ আরও কিছু তথ্য প্রয়োজন। এসব তথ্যের জন্য অপেক্ষা করা হলেও সব তথ্য না পাওয়ায় গেমসের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই প্রস্তাবটি অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এখন অর্থ বিভাগে এ অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া হয়েছে এবং সেগুলো সরবরাহের জন্য বিওএকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। ‘২৩তম কমনওয়েলথ গেমস স্কটল্যান্ড’-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ভ্রমণ ব্যয় বাবদ বিওএর অনুকূলে ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ের সম্মতি দিয়েছে অর্থ বিভাগ। গত ৩ সেপ্টেম্বর এ অনুমোদন পাওয়া গেছে। এ ছাড়া এশিয়ান বিচ গেমসের বাজেটও গত ২৩ আগস্ট অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন ও অর্থ ছাড় হলে ওই অর্থ বিওএর কাছে পৌঁছাবে।
অন্যদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৫০০ ক্রীড়াবিদকে প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা করে ক্রীড়া ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য বাজেটে ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭’ কর্মসূচির জন্য রাখা হয়েছে আরও ১৪০ কোটি টাকা। দুটি খাত মিলিয়ে মোট ২০০ কোটি টাকা ‘নন-এডিপি স্কিম’-এর আওতায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ প্রথমে চলতি অর্থবছরের ৬০ কোটি টাকার সঙ্গে পরবর্তী চার অর্থবছরের জন্য আরও ২৪০ কোটি টাকা যুক্ত করে পাঁচ বছরের জন্য মোট ৩০০ কোটি টাকার কর্মসূচি প্রস্তাব করেছিল।