সরকার সংসদে সংসদীয় স্বৈরতন্ত্র কায়েম করেছে: নাহিদ ইসলাম

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না হলে সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১১ পিএম

সরকার সংসদে সংসদীয় স্বৈরতন্ত্র কায়েম করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইফ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সরকার বিচারবিভাগের স্বাধীনতার কথা বললেও বাস্তবে তা নিশ্চিত করছে না। রাজপথে বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়ন চলছে। ১১ দলের নেতাকর্মীদের ওপর আর কোনো হামলা হলে তা প্রতিহত করা হবে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ফেনীর মহীপালে লংমার্চের পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বেলা সোয়া ২টার দিকে জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আবদুল হান্নানের উদ্বোধনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে পথসভা শুরু হয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না। জনগণ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। দেশ উল্টো পথে চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না হলে সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। ঢাকার লংমার্চ থেকে রাজনৈতিক ঘোষণা দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এর আগেই ৬ দফা মেনে নিতে হবে।

পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী আমলের গণহত্যা এবং জুলাই গণহত্যার বিচার করতে হবে। সরকার এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার করছে না দাবি করে তিনি বলেন, জনগণ জানতে চায় তাদের প্রাণের দাবির বিচার কোথায়।

বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের ছয় মাস পার হলেও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করেনি অভিযোগ করে তিনি বলেন, সরকার ক্ষমতা গ্রহণের শুরু থেকেই বিশ্বাসঘাতকতা করে আসছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কোনো দলীয় দাবি নিয়ে রাস্তায় নামিনি, জনগণের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি।’ নতুন ফ্যাসিবাদের কবর দিতে তারা রাজপথে রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো চোখ রাঙানিকে তারা ভয় পান না।

যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের নেতৃত্ব ভবিষ্যতে যুবকরাই দেবে। সব ধর্ম ও বিশ্বাসের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এমন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, জুলাই গণহত্যার বিচার এখনো হয়নি। ফ্যাসিবাদ ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হবে। গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কারের দাবি জানান তিনি।

পথসভায় আরও বক্তব্য দেন এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) আহমেদ বীর বিক্রম, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ ১১ দলের নেতারা।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে লংমার্চের বহর রওনা হয়। লংমার্চের রুটে পূর্বনির্ধারিত বিভিন্ন স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। মীরসরাই হয়ে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে গিয়ে জনসভার মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত