ইতালিতে বাঁধনের ওপর হামলা সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ক্ষোভ

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৯ এএম

ইতালির মেস্ট্রেতে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে যাওয়া অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন হেনস্তা ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক ভিডিওবার্তায় তিনি এ অভিযোগ তোলেন।

বাঁধনের ভাষ্য অনুযায়ী, পার্কের ভেতরে ভাইয়ের পরিবার ও শিশুসন্তানের সঙ্গে থাকা অবস্থায় ৩-৪ জন ব্যক্তি তার ওপর চড়াও হয়। এ সময় তাকে গালাগাল করার পাশাপাশি শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয় এবং গায়ে কোল্ড ড্রিংকস ও ডিম ছুড়ে মারা হয়। এমনকি তার মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে ঘেরাও করে এবং ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ সেøাগান দেওয়ার জন্য মানসিক চাপ সৃষ্টি করে পুরো ঘটনার ভিডিওচিত্র ধারণ করে।

ভিডিওবার্তায় বাঁধন উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, তিনি ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেনের যে সিনেমা নিয়ে এসেছেন, সেটির পরিচালকের বাবা আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও জুলাই আন্দোলনের পর তিনি পেশাদারত্ব রক্ষা করে কাজটি শেষ করেছেন। আওয়ামী লীগ কর্মীদের এমন অসংলগ্ন আচরণ থেকে বের হয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, এভাবে ভয় দেখিয়ে, গায়ে হাত তুলে তাকে দমানো সম্ভব নয়। তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী একজন শিল্পীকে লাঞ্ছিত করে বিশ্বমঞ্চে দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করেছে। একই সঙ্গে তিনি ভেনিসে অবস্থানরত সজীব ওয়াজেদ জয়কে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য আহ্বান জানান।

বিদেশে বাংলাদেশি অভিনেত্রীর ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার খবরে দেশের বিনোদন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। সামাজিক মাধ্যমে বিনোদন জগতের শীর্ষ তারকারা এ ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

অভিনেত্রী সাফা কবির ঘটনাটিকে অত্যন্ত লজ্জাজনক অভিহিত করে বলেন, কোনো শিল্পীর সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনীতির জঘন্য টানাপড়েনে বারবার শিল্পীদের জড়িয়ে এভাবে পুরো দেশকে বিশ্বমঞ্চে উগ্র হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। ঘটনার দ্রুত বিচার দাবি করে তিনি শিল্পীর নিরাপত্তা ও সম্মানের সুরক্ষায় সবাইকে এক থাকার আহ্বান জানান।

চিত্রনায়িকা পরীমণি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এমন আচরণকে অমানবিক আখ্যা দেন। তিনি বলেন, রাস্তায় ... ঘেউ ঘেউ করা লোকদের কাছে নিষ্পাপ শিশুর কান্না, মানুষের সুরক্ষার কোনো মূল্য নেই।

নির্মাতা রেদওয়ান রনি এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে প্রশ্ন তোলেন, ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার মাধ্যমে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনা চলচ্চিত্রকর্মীর ওপর এমন হামলা চালিয়ে হামলাকারীরা দলের কী ভাবমূর্তি তৈরি করতে চাচ্ছে? তিনি এই ঘৃণ্য হামলাকে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীদের জোরপূর্বক মতামত চাপিয়ে দেওয়ার বর্বরতার সঙ্গে তুলনা করেন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল ও অনিরাপদ পরিস্থিতির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, যেকোনো মতের ওপর অন্ধত্ব, সন্ত্রাস ও শিল্পীদের ওপর আক্রমণ দেশকে এক গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

অন্যদিকে অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ বলেন, শিল্পীদের ওপর সহিংসতা কোনো রাজনৈতিক আদর্শের সমাধান হতে পারে না। হামলাকে অন্য কোনো অন্যায়ের সঙ্গে তুলনা করে জায়েজ করার প্রবণতা রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ছাড়া আর কিছুই নয়।

একই সুর মিলিয়ে নির্মাতা শিহাব শাহীন এ হামলার তীব্র নিন্দা জানান। শিহাব শাহীন উল্লেখ করেন, কয়েকজন পুরুষ মিলে একজন নারীর ওপর এভাবে হামলা চালিয়ে কোনো উদ্দেশ্য হাসিল তো হয়ইনি, বরং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চরমভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে।

নির্মাতা আশফাক নিপুণ এটিকে অত্যন্ত নিন্দনীয় ও লজ্জাজনক বলেছেন। তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের সিনেমার প্রতিনিধিত্ব করতে যাওয়া একজন শিল্পীর ওপর হামলা সত্যিই বর্বরোচিত ও দুঃখজনক। এমন ঘটনায় শিল্পীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। আশা করি, তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা পাবেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত