বিদ্যুৎ নেই, মোমবাতির আলোয় চলছে জরুরি চিকিৎসা

জেনারেটর থাকলেও নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। জরুরি বিভাগের মূল কক্ষে নেই পর্যাপ্ত বিকল্প আলোর ব্যবস্থা।

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতির আলোয় চলছে রোগীদের চিকিৎসাসেবা। জেনারেটর থাকলেও সেটি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। পাশাপাশি জরুরি বিভাগের মূল কক্ষে পর্যাপ্ত বিকল্প আলোর ব্যবস্থাও নেই। ফলে ঘনঘন লোডশেডিংয়ের মধ্যে মোমবাতির আলোতেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে রোগীদের।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টা ৮ মিনিটে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর পেটব্যথার এক রোগীকে মোমবাতির আলোয় চিকিৎসা দিতে দেখা যায়। একই সময়ে পা কেটে যাওয়া আরেক রোগীর ক্ষতস্থানে মোমবাতির আলোতেই সেলাই দেওয়া হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, ঈশ্বরগঞ্জে প্রতিদিন একাধিকবার লোডশেডিং হচ্ছে। তাঁদের দাবি, প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ বারের বেশি বিদ্যুৎ চলে যায়। প্রতিবার ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। পর্যাপ্ত বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলেই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভোগান্তি বাড়ছে।

শনিবার রাতে পেটব্যথা নিয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসেন ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের চরহোসেনপুর গ্রামের বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম রুবেল। তাঁকে নিয়ে আসা স্বজন রায়হান বিন নাইম বলেন, রাতে রোগী নিয়ে এসে তাঁরা দেখেন জরুরি বিভাগ অন্ধকার। মোমবাতির আলোয় চিকিৎসাসেবা নিতে হচ্ছে। জরুরি চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্তত বিকল্প আলোর ব্যবস্থা থাকা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে পা কেটে যাওয়ায় চিকিৎসা নিতে আসেন ঈশ্বরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম। বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতির আলোয় তাঁর পায়ে সেলাই করা হয়। জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় মোমবাতির আলোয় চিকিৎসা নিতে হওয়া বিব্রতকর। জরুরি বিভাগে সবসময় বিদ্যুৎ ও বিকল্প আলোর ব্যবস্থা রাখার দাবি জানান তিনি।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ঈশ্বরগঞ্জের আবাসিক প্রকৌশলী মো. গোলাম সামদানী বলেন, আবহাওয়ার ওপর বিদ্যুতের চাহিদা নির্ভর করে। তবে গড়ে ঈশ্বরগঞ্জে সাড়ে ৭ থেকে ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৩ থেকে ৪ মেগাওয়াট। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ায় সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ঈশ্বরগঞ্জে লোডশেডিংয়ের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে হাসপাতালের মতো জরুরি সেবাকেন্দ্রেও।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সময় ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার আসমা উল হুসনা দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর কক্ষে আইপিএসের ব্যবস্থা থাকলেও জরুরি বিভাগের মূল কক্ষে পর্যাপ্ত ব্যাকআপ আলোর ব্যবস্থা নেই। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে আলো জ্বালাতে মোমবাতির ওপর নির্ভর করতে হয়।

উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার সাগর মোদক বলেন, জরুরি বিভাগের আইপিএস প্রায় আধা ঘণ্টা চালু থাকে। আর জেনারেটর চালানোর জন্য সরকারিভাবে তেলের বরাদ্দ নেই।

হাসপাতালের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী জানান, জেনারেটর বরাদ্দ হওয়ার পর থেকেই সেটি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে এটি সচল না থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দিন-রাত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। অথচ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর পর্যাপ্ত বিকল্প আলোর ব্যবস্থা না থাকায় চিকিৎসক, নার্স ও রোগীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে গুরুতর রোগী এলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ঘনঘন লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি জেনারেটর অচল এবং জরুরি বিভাগে পর্যাপ্ত বিকল্প আলোর ব্যবস্থা না থাকায় মোমবাতির আলোয় চিকিৎসাসেবার এমন দৃশ্য নিয়ে হাসপাতালের জরুরি ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পরে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন ফখরুল ইসলাম টিপু বলেন, বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা অবশ্যই আছে। তারপরও জরুরি বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কেন মোমবাতি জ্বালাতে হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে যেখানে স্বাভাবিক সেবাই ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে উপজেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জরুরি বিভাগে মোমবাতির আলোয় চিকিৎসাসেবার ঘটনায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, জরুরি বিভাগে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত