এলডিসি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্মিলিত সমন্বয় জরুরি

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৬ এএম

এলডিসি থেকে উত্তরণের পর মেধাস্বত্ব সুরক্ষাসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকরা। তাদের মতে, মেধাস্বত্ব সুরক্ষার নতুন বাস্তবতা বাংলাদেশের ওষুধ, তৈরি পোশাক, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও অন্যান্য শিল্প খাতে যেমন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে, তেমনি উদ্ভাবন, প্রযুক্তি উন্নয়ন, ব্র্যান্ডিং ও মূল্য সংযোজনের নতুন সুযোগও সৃষ্টি করবে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, শিল্প খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় জোরদার করা প্রয়োজন।

গতকাল সোমবার রাজধানীর ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সাপোর্ট টু সাসটেইনেবল গ্র্যাজুয়েশন প্রজেক্ট (এসএসজিপি) এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) যৌথভাবে আয়োজিত ‘এলডিসি-পরবর্তী সময়ে শিল্প খাতের রূপান্তর : মেধাস্বত্ব অধিকার সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ ও কৌশল নির্ধারণ’ শীর্ষক ফোকাস গ্রুপ আলোচনায় বক্তারা এ কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ইআরডি সচিব মো. শাহ্রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী। সভাপতিত্ব করেন ডিসিসিআই প্রেসিডেন্ট তাসকীন আহমেদ।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ এবং ওয়াইপো একাডেমির সাবেক পরামর্শক মোহাম্মদ আতাউল করিম। তিনি বলেন, এলডিসি-উত্তর যুগে বাংলাদেশের শিল্প খাতকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে মেধাস্বত্ব অধিকার বা আইপিআরকে কৌশলগতভাবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, ওষুধ, সফটওয়্যার ও আইটি, কৃষি,  ও শিল্প-নকশাসহ বিভিন্ন খাতের বাধ্যবাধকতা নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে এগুলো উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও শিল্পের রূপান্তরের সুযোগও তৈরি করবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিদ্যমান ওচজ-সংক্রান্ত আইনি নমনীয়তা কাজে লাগানোর পাশাপাশি গবেষণা ও উন্নয়ন, শিল্প-শিক্ষাঙ্গন সহযোগিতা এবং উদ্ভাবনে প্রণোদনা বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানের নির্ধারিত আলোচনায় পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, কপিরাইট অফিস বাংলাদেশের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত সচিব) এস এম আরশাদ ইমাম, এসএসজিপির প্রকল্প উপদেষ্টা ও সাবেক সচিব আবদুল বাকী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (ট্রেড সাপোর্ট মেজারস উইং) ড. সাইফ উদ্দিন আহম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুরেজা এম মুজারেবা, বাংলাদেশ অ্যাগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী মোস্তাফিজুর রহমান, বিজিএমইএর সেক্রেটারি জেনারেল মেজর জেনারেল ড. মো. শাহেদুল ইসলাম (অব.), ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের মহাপরিচালক মো. আজিজুর রহমান, এফসিএস, ব্রেইন স্টেশন ২৩ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাইসুল কবির এবং ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ফায়েজ আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইআরডি সচিব মেধাস্বত্ব ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামো ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা বা এসএমই খাতকে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি এ খাতের ওপর আরও বেশি নজর দেওয়ার আহ্বান জানান। ইআরডি সচিব বলেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যের দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে যেমন ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, তেমনি এসব পণ্যের ডিজাইন ও গুণমান আরও উন্নত করা গেলে তা বহির্বিশ্বে রপ্তানিরও ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, গবেষণা খাতে বাজেট বরাদ্দ থাকলেও তা ব্যবহৃত হচ্ছে না। আবার এ খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নেই এমন অভিযোগও রয়েছে। তার মানে হলো, সমন্বয়ের অভাব রয়েছে, যা নিরসন করা প্রয়োজন।

ইআরডি সচিব জানান, এসএমই খাতের জন্য সরকার বিশেষ তহবিল ঘোষণা করছে। তবে এ ধরনের বরাদ্দ বাস্তবায়নে উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়ানো ও টেকসই উন্নয়ন জরুরি। তিনি আরও বলেন, সরকার এসএসজিপি প্রকল্পের মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে খাতভিত্তিক কারিগরি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট নীতিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সংস্কার করা হবে। তবে বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরও জানান, সরকারি সব ধরনের সেবা ডিজিটাল কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা শিগগিরই চালু হবে বলে আশা করা যায়।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পণ্যের মেধাস্বত্বের বিষয়টির গুরুত্ব প্রতিনিয়ত বাড়ছে এবং এলডিসি-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের জন্য একটি শক্তিশালী মেধাস্বত্ব অধিকারের ইকোসিস্টেম একান্ত অপরিহার্য। বাংলাদেশের ওষুধ, তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে সামনের দিনগুলোতে শুধু উৎপাদন বাড়ানোর ওপর নজর না দিয়ে উদ্ভাবন, ব্র্যান্ডিং, প্রযুক্তি বিনিময় এবং মূল্য সংযোজনের ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন ডিসিসিআই সভাপতি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত