পোশাক খাতের কাঁচামাল আমদানিতে বিশেষ ছাড়

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৮ এএম

দেশের শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা এবং পোশাক খাতের রপ্তানি বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করতে ‘আমদানি নীতি আদেশ, ২০২৬-২০২৯’-এ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু সংশোধন এনেছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য-১ শাখা থেকে গত ২০ সেপ্টেম্বর জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে এই সংশোধনীগুলো ঘোষণা করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব সুব্রত কুমার দে স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে যেসব বিষয়ে সংশোধন করা হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানিতে নিবন্ধন সনদ শিথিল : শিল্প স্থাপনের প্রক্রিয়া সহজ করতে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে । এখন থেকে সব অনুমোদিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান আমদানি নিবন্ধন সনদ ছাড়াই শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যাপিটাল মেশিনারিজ (মূলধনি যন্ত্রপাতি) আমদানি করতে পারবে। এ ছাড়া চালু থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন অব্যাহত রাখতে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশ (স্পেয়ার পার্টস) আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

তৈরি পোশাক খাতের কৃত্রিম তন্তুর কাঁচামাল আমদানিতে স্বস্তি : রপ্তানিমুখী পোশাক খাতের বৈচিত্র্যায়ন নিশ্চিত করতে কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি বিশেষ পোশাক যেমন সেলাইবিহীন স্পোর্টসওয়্যার, উচ্চমূল্যের ফ্যাশন আইটেম ও ফাংশনাল পোশাক তৈরিতে ব্যবহৃত কাপড়ের আকৃতি ও সাইজসংক্রান্ত নিয়ম শিথিল করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ/বিকেএমইএ) সুপারিশক্রমে এসব বিশেষ কাপড় আমদানি করা যাবে। পাশাপাশি কটন, ম্যান মেইড ফাইবার ও সিনথেটিক ফেব্রিক্সের সঙ্গে অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণের পরিধি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

অনলাইনে বীমা পলিসি দাখিল বাধ্যতামূলক : আমদানি বাণিজ্যে স্বচ্ছতা আনতে বেসরকারি আমদানিকারকদের পণ্য খালাসের সময় সাধারণ বীমা করপোরেশন, দেশীয় বা কোনো বিদেশি বীমা কোম্পানির কভার নোট ও বীমা পলিসি কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে বাধ্যতামূলকভাবে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে অনলাইনে দাখিল করতে হবে।

বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের লবণ আমদানির নতুন নিয়ম : বন্ড লাইসেন্সধারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত বার্ষিক প্রাপ্যতা ও প্রকৃত ব্যবহারের ভিত্তিতে লবণ আমদানির পরিমাণ নির্ধারিত হবে। এজন্য পোশাক কর্তৃপক্ষের আলাদা সুপারিশের প্রয়োজন হবে না।

অর্থ পরিশোধের সুবিধা ও ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি : মূল্য পরিশোধ প্রক্রিয়ায় ঋণপত্র বা চুক্তিপত্রের পাশাপাশি টিটি ব্যবহারের সুযোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্পেশালাইজড টেক্সটাইল ও হোসিয়ারি পণ্য রপ্তানির জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্র বা চুক্তিপত্রের বিপরীতে ইউটিলাইজেশন ডিক্লেয়ারেশন (ইউডি) বা ইউটিলাইজেশন পারমিশন (ইউপি) অনুযায়ী কাঁচামাল ও মোড়কসামগ্রী আমদানিতে আগের নিয়ম পরিবর্তন করা হয়েছে। সংশোধিত নীতিতে প্রতিটি চুক্তির বিপরীতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে না।

এ প্রসেঙ্গ নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ)  সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম দেশ রূপান্তরকে বলেন, সরকার আদামদানি নীতি আদেশ নতুন সংশোধনীতে যেসব বিষয় এসেছে, তা শিল্পের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। এর আগের নীতি আদেশটিতে অনেকেগুলো বিষয়ে প্রতিবন্ধকতা এবং দ্বন্দ্ব ছিল, যা অধিকতর সংশোধনীর মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে। আমরা বিষয়গুলো চিহ্নিত করে বাণিজ্যমন্ত্রী মহোদয়কে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি বলে এটি সম্ভব হয়েছে। তিনি আমাদের সঙ্গে একমত হয়েছেন। কারণ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাজই হচ্ছে, বাধা মুক্ত যৌক্তিক আমদানি-রপ্তানির পথ তৈরি করা। তিনি আমাদের সে সুযোগ করে দিয়েছেন, যা শিল্পের জন্য ইতিবাচক হয়েছে। এ জন্য আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আশা করছি, ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন নীতি আদেশ ভালো ভূমিকা রাখবে। দেশের রপ্তানি বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রতিযোগিতায় বিশেষ অবদান রাখবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত