ব্রাজিলের কঠিন পরীক্ষা নিল অস্ট্রেলিয়া

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৫ এএম

উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে হেরে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়ার পর নতুন শুরুর খোঁজে অস্ট্রেলিয়ায় পা রেখেছিল ব্রাজিল। তবে কার্লো আনচেলত্তির নতুন ধারার সেলেসাওদের ঘরের মাঠে ভালোই ভুগিয়েছে সকারুজরা। ম্যাচে শেষ মুহূর্ত পর্যন্তও যখন হারের প্রহর গুনছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ের রায়ানের ভেতরের হেডে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ান সেলেসাওরা। অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহাসিক এক জয়ের স্বপ্নভঙ্গ করে ১-১ সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।

ম্যাচ শুরুর আগে কোচ আনচেলত্তি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন, কোনো ম্যাচই প্রীতি ম্যাচ নয়। তবে মাঠের খেলায় অস্ট্রেলিয়াও প্রমাণ করে দিল, কথার চেয়ে কাজ কতটা কঠিন। টাউন্সভিলের কুইন্সল্যান্ড কান্ট্রি ব্যাংক স্টেডিয়ামে ব্রাজিলকে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের পাশাপাশি লড়াই করতে হয়েছে বরফের মতো পিচ্ছিল ও অবনতিশীল এক অদ্ভুত পিচের সঙ্গেও। রাফিনহা, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও এনদ্রিকদের নিয়ে গড়া তারকাখচিত আক্রমণভাগ মাঠে নামলেও বলের নিয়ন্ত্রণ কিংবা নিজেদের ছন্দে বেশ অস্বস্তিতে ছিল ব্রাজিল। সেখানে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে এস্তেভাও বল জালে পাঠালেও ভিএআর এর সিদ্ধান্তে তা বাতিল হয়ে যায়।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে খেলার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে সেলেসাওরা। তবে ম্যাচের ডেডলক ভাঙে স্বাগতিকদের দুর্দান্ত এক নৈপুণ্যে। ৬৮ মিনিটে বক্সের সামান্য বাইরে থেকে চোখ জুড়ানো ফ্রি-কিক থেকে বল জালে জড়িয়ে স্টেডিয়ামের হাজারো দর্শককে উল্লাসে মাতান অস্ট্রেলিয়ার তরুণ সেনসেশন নেস্তরি ইরানকুন্ডা।

এদিকে গোল হজমের পর কোচ আনচেলত্তি আক্রমণভাগে একের পর এক পরিবর্তন এনে স্যামুয়েল লিনো, পেদ্রো ও রায়ানের মতো খেলোয়াড়দের মাঠে নামান। সেখানেই ত্রাতা হয়ে আসেন রায়ান। ম্যাচের একদম অন্তিম মুহূর্তে, যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে (৯০+৫ মিনিটে) রাফিনহার নেওয়া কর্নার কিকের দারুণ এক হেডে বল জালে জড়িয়ে ব্রাজিলকে অনেকটা নিশ্চিত পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা করেন এই ফরোয়ার্ড।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বাগতিকদের পারফরম্যান্স এবং মাঠের প্রতিকূলতা নিয়ে জানিয়েছেন দুই দলের কোচ। অস্ট্রেলিয়ার কোচ টনি পপোভিচ ম্যাচ শেষে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা কিছুটা হলেও হতাশ, আর ড্রেসিংরুমও বেশ চুপচাপ, যা ভালো লক্ষণ। অবশ্যই ব্রাজিলের মতো দলের বিপক্ষে এমন ম্যাচে পয়েন্ট পাওয়া আনন্দের, তবে ম্যাচের শেষ বাঁশির আগ পর্যন্ত এগিয়ে থেকেও জয় না পাওয়ায় কিছুটা মলিন লাগছে। তবে এই পারফরম্যান্স নিয়ে আমাদের গর্বিত হওয়া উচিত।’

অন্যদিকে, ড্রয়ের পরেও নিজের দলের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার কথা জানিয়ে ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তি বলেন, ‘এটাকে হার বলা চলে না কারণ ম্যাচটি ড্র হয়েছে। আমরা জিততেও পারতাম, আমাদের সুযোগ ছিল। আমাদের একটু ধৈর্য ধরতে হবে। গোল হজমের পর ছেলেরা যেভাবে লড়াই করে সমতা এনেছে, তা প্রাপ্যই ছিল। এই ম্যাচগুলো আমাদের জন্য বড় পরীক্ষা। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল মাঠ, এই পিচে খেলা সত্যিই কঠিন ছিল। আশা করি পরের ম্যাচে মাঠের পরিস্থিতি আরও ভালো পাব।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত