উয়েফা নেশনস লিগে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর গোলবঞ্চিত হতাশা আর জোয়াও ফেলিক্সের ঝলকে যখন পর্তুগাল জয় দিয়ে মিশন শুরু করেছে, তখন আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে দীর্ঘ ২৮ বছরের খরা কাটিয়ে ডেনমার্ককে হারিয়েছে নরওয়ে। অন্যদিকে, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যকার উত্তাপ ছড়ানো ম্যাচটা হয়েছে ১-১ গোলের ড্র, যেখানে দুই দলের ডাগআউটে ইয়ুর্গেন ক্লপ ও জাভি হার্নান্দেজের অভিষেকে জিতলেন না কেউই।
ফেলিক্সের গোলে পর্তুগালের জয়
জোয়াও ফেলিক্সের একমাত্র গোলে ওয়েলসকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে উয়েফা নেশনস লিগে শুভসূচনা করেছে পর্তুগাল। তবে লিসবনের হোসে আলভালাদে স্টেডিয়ামে জয়ের রাতেও কাক্সিক্ষত গোলের দেখা না পেয়ে বেশ হতাশায় মাঠ ছাড়তে হয়েছে অধিনায়ক রোনালদোকে। নিজের পুরনো ঘরের মাঠে লিসবনে দীর্ঘ এক বছর পর খেলতে নেমেছিলেন ৪১ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ মহাতারকা। সেখানে ম্যাচের ২২ মিনিটে তার আল-নাসরের সতীর্থ ফেলিক্সের শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে জড়ালে জয়সূচক গোল পেয়ে যায় পর্তুগাল।
তবে পুরো ম্যাচজুড়েই সুযোগ হাতছাড়ার মহড়ায় মেতেছিলেন রোনালদো। প্রথমার্ধে চারটি ভালো সুযোগ নষ্ট করার পর, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে গোলপোস্টের কাছ থেকেও বল উড়িয়ে মারেন এই তারকা। এমনকি ব্রুনো ফার্নান্দেসের পাস থেকে বল পেয়ে জাল জড়িয়ে ট্রেডমার্ক ‘সিউ’ উদযাপন করলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়।
ম্যাচের ৬৭ মিনিটে কোচ জর্জ জেসুস তাকে তুলে নিলে কিছুটা অসন্তুষ্ট হন পর্তুগাল অধিনায়ক। কোচ জেসুস ম্যাচ শেষে জানান, খেলার গতি সচল রাখতেই আগে থেকে নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এই পরিবর্তন আনা হয়েছিল। অন্যদিকে, শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করে ওয়েলস। শেষ পর্যন্ত পর্তুগালের ২৩টি শটের বিপরীতে লড়েও হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ক্রেগ বেলামির দলকে।
২৮ বছরের খরা কাটাল নরওয়ে
আর্লিং হাল্যান্ডের দুর্দান্ত জোড়া গোলে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান প্রতিদ্বন্দ্বী ডেনমার্ককে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছে নরওয়ে। এই জয়ের সুবাদে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে দীর্ঘ ২৮ বছর পর ডেনমার্কের বিপক্ষ প্রথম জয়ের স্বাদ পেল তারা। একই সঙ্গে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে নেশনস লিগে ২০ গোলের অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে হালান্ড।
অসলোর মাঠে ম্যাচের ১৪ মিনিটে মার্টিন ওডেগার্ডের পাস থেকে অস্কার বব নরওয়েকে এগিয়ে নেন। এর চার মিনিট পর অ্যান্টোনিও নুসার থ্রু পাস ধরে ডেনিশ গোলরক্ষক ফিলিপ জর্গেনসেনের পায়ের ফাঁক দিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হালান্ড। তবে দমে না গিয়ে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ডেনমার্ক; ফ্রি-কিক থেকে মিকেল ডামসগার্ড ব্যবধান কমানোর পর রাসমুস হজলুন্ডের গোলে সমতায় ফেরে ডেনিশরা।
তবে হালান্ডের শেষ চমক তখনো ছিল বাকি। ম্যাচের ৭৪ মিনিটে ওডেগার্ডের নিখুঁত পাসে নিজের দ্বিতীয় ও দলের জয়সূচক গোলটি করেন এই নওয়েজীয় গোলমেশিন। এটি জাতীয় দলের জার্সিতে তার ৫৬ ম্যাচে ৬৪তম গোল। ম্যাচের যোগ করা সময়ে নরওয়ের ডেভিড ওলফে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় ১০ জনের দলে পরিণত হলেও ঘরের মাঠে টানা ১৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড অক্ষুণœ রেখেই মাঠ ছাড়ে স্টাল সোলবাকেনের দল।
ক্লপ-জাভির লড়াইয়ে জিতল না কেউ
ম্যাচ ছিল দুই শক্তিশালী দলের নতুন ডাগআউটের, যেখানে জার্মানদের নতুন কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ আর ডাচদের জাভি হার্নান্দেজ। তবে দুই কোচের অভিষেকটা জয়ে রাঙাতে পারলেন না কেউই। অবশ্য ম্যাচটি জার্মানির জয়ের পথেই যাচ্ছিল, তবে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় আমস্টারডামে অনুষ্ঠিত এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে ১-১ গোলের সমতায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নিয়েছে দুই দল। ম্যাচের শুরুতে জার্মান মিডফিল্ডার ফেলিক্স এনমেকার গোলে পিছিয়ে পড়লেও অভিষিক্ত ২২ বছর বয়সী পিএসভি উইঙ্গার রুবেন ভ্যান বোমেলের চমৎকার ‘ট্রিভেলা’ ক্রস থেকে কোডি গাকপোর দুর্দান্ত এক ভলিতে শেষ মুহূর্তে (৯০+২ মিনিটে) মূল্যবান এক পয়েন্ট নিশ্চিত করে ডাচরা।
ম্যাচ শেষে ডাচ কোচ জাভি জানান, প্রথমার্ধে দলের মধ্যে কিছুটা নার্ভাসনেস থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে তারা পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছিল এবং একমাত্র তাদেরই জয় পাওয়া উচিত ছিল। এ ম্যাচে ডাচদের দুটি গোল ভিএআর ও ফাউলের কারণে বাতিল হয়। এছাড়া পেশির ইনজুরিতে পড়ে প্রথমার্ধেই মাঠ ছাড়েন ফরোয়ার্ড ব্রায়ান ব্রোবে। তবে নতুন বিকল্প খোঁজার পাশাপাশি দলের লড়াইয়ের মানসিকতা নিয়ে দারুণ আশাবাদী জাভি।