চবিতে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৩ এএম

​চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ও চীনের ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট’ উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় চবির কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ৫ম তলায় এ ইনস্টিটিউট উদ্বোধন করা হয়।

​২০২৫ সালের অক্টোবরে চাইনিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন ফাউন্ডেশনের অনুমোদন পাওয়ার পর একই বছরের নভেম্বরে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ কনফারেন্স’-এ দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় চবিতে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের যাত্রা শুরু হলো।

​এদিন সকালে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের ফলক উন্মোচন করেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চীনের ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্টি কমিটির সম্পাদক রুয়ান চাওছি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সালেহ্ জহুর, কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল শাহীন খান, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. এনায়েত উল্যা পাটওয়ারীসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, আবাসিক হলের প্রভোস্টবৃন্দ, ছাত্রছাত্রী নির্দেশনা ও পরামর্শ কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন এবং চবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুল হোসেন প্রমুখ।

​অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চবি পরিচালক ও উদ্বোধন কমিটির আহ্বায়ক, সাবেক উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন ছাত্রছাত্রী নির্দেশনা ও পরামর্শ কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন ও আধুনিক ভাষা শিক্ষা ইন্সটিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ফারিন রহমান। 

​অনুষ্ঠানে চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাচীনকাল থেকেই চীনের সাথে বাংলার একটি ঐতিহাসিক সম্পর্ক ছিল। বিশেষ করে চাইনিজ পরিব্রাজক ও ব্যবসায়ীরা নিয়মিত এ অঞ্চলে ভ্রমণ করেছেন। কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি নতুন সম্পর্ক তৈরি হবে। একই সাথে দুই দেশের তরুণ শিক্ষার্থীরা একে অপরের সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হতে পারবে এবং নাগরিকদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।

​বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, সরকার বর্তমানে প্রতিটি নাগরিককে তৃতীয় আরেকটি ভাষা শেখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে প্রায় ৮-৯টি ভাষা অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যার মধ্যে অন্যতম হবে চীনা ভাষা। আমাদের ভাষা ইনস্টিটিউটকে আমরা আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে চাই। ভাষার মাধ্যমে কেবল মনের ভাব আদান-প্রদান হয় না, বরং জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মাত্রা বাড়ে। কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও দুদেশের নাগরিকরা সরাসরি উপকৃত হবেন।

​তিনি আরও বলেন, আজকের এই আয়োজনের মাধ্যমে দুদেশের নাগরিকদের মধ্যে পারস্পরিক মতবিনিময় ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্র আরও প্রসারিত হবে। জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চীনের ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, এই কনফুসিয়াস সেন্টার কেন দরকার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় তা যথাযথভাবে অনুধাবন করতে পেরেছে। চীনা ভাষাকে যদি আমরা ৩য় ভাষা হিসেবে যুক্ত করতে পারি, তবে তা আমাদের শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বিশেষ সুযোগ তৈরি করে দেবে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার ঘোষণা করেছে, কমপক্ষে ৫০টি ইনস্টিটিউটে ৩য় ভাষা হিসেবে চীনা ভাষাকে সংযুক্ত করতে হবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সর্বপ্রথম এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে পেরেছে।

​তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমাদের এই কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটকে আরও সমৃদ্ধ করা হবে। চীনা ভাষা শিখে তারা যোগ্য গ্র্যাজুয়েট হিসেবে চাকরির বাজারে নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিতে পারবে। পাশাপাশি চীনে উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার ক্ষেত্রে এ ভাষা দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতি আমার আহ্বান, তারা যেন তৃতীয় ভাষা হিসেবে চাইনিজ শিখে নিজেদের যোগ্য করে তোলে।

​উপাচার্য আরও বলেন, আজ সকালে রুয়ান চাওছি যখন কনফুসিয়াস সেন্টারটি উদ্বোধন করছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন—তিনি এই সেন্টারটিকে ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি রেপ্লিকা হিসেবে গড়ে তুলতে চান। এটি কেবল ভাষা শেখার জায়গা হবে না, বরং একটি ‘কালচারাল হাব’ হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীরা নিজেদের আরও সমৃদ্ধ করতে পারবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত