স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ওটস বেশ জনপ্রিয় খাবার। ওটস হলো সম্পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবার, যাতে কার্বোহাইড্রেটের পাশাপাশি খাদ্যআঁশ, কিছু প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান থাকে। বিশেষ করে সকালের নাশতায় ওটস খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। ওটসকে কোনো জাদুকরী ডায়েট খাবার হিসেবে না দেখে সুষম খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হিসেবে গ্রহণ করাই সবচেয়ে ভালো। পরিমাণ ও সঙ্গে কী খাচ্ছেন দুটিই ওটসের স্বাস্থ্যগত উপকারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
ওটস
ওটসে থাকা দ্রবণীয় খাদ্যআঁশ, বিশেষ করে বিটা-গ্লুকান, হজমের গতি কিছুটা ধীর করে এবং দীর্ঘ সময় তৃপ্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে। ফলে বারবার ক্ষুধা লাগা বা অতিরিক্ত নাশতা করার প্রবণতা কমতে পারে। পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত খাবার নিয়মিত খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও সহায়তা করে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে ওটস খাওয়া রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
ওটস নিজে কোনো ‘ওজন কমানোর খাবার’ নয়। তবে পরিমাণ ঠিক রেখে এবং চিনি, মিষ্টি সিরাপ বা অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত উপাদান ছাড়া খেলে এটি একটি পুষ্টিকর ও পেটভরা নাশতা হতে পারে। ওজন কমাতে হলে দিনের মোট ক্যালরি গ্রহণ, পর্যাপ্ত প্রোটিন, শাকসবজি, শারীরিক পরিশ্রম ও ঘুম সবকিছুর দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
খাবেন কীভাবে
সহজভাবে দুধ বা পানিতে ওটস রান্না করে তার সঙ্গে কলা, আপেল, পেয়ারা, বেরি বা অন্যান্য ফল যোগ করতে পারেন। চাইলে বাদাম, চিনাবাদাম বা চিয়াসিড অল্প পরিমাণে দেওয়া যায়। ঝাল খাবার পছন্দ করলে সবজি, ডিম ও সামান্য মসলা দিয়ে সেভরি ওটস তৈরি করা যায়। তবে স্বাদ বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত চিনি, মধু, চকোলেট বা মিষ্টি ফ্লেভারযুক্ত ইনস্ট্যান্ট ওটস নিয়মিত খাওয়া ভালো নয়।
অপকারিতা
বেশিরভাগ মানুষের জন্য পরিমিত পরিমাণে ওটস নিরাপদ। তবে হঠাৎ বেশি পরিমাণে খেলে অতিরিক্ত আঁশের কারণে গ্যাস, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি হতে পারে। তাই শুরুতে অল্প পরিমাণে খেয়ে ধীরে ধীরে বাড়ানো ভালো এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত। যাদের গ্লুুুটেন এড়িয়ে চলতে হয়, তাদের ক্ষেত্রে প্যাকেটের লেবেল দেখে মষঁঃবহ-ভৎবব ড়ধঃং বেছে নেওয়া প্রয়োজন।