পোশাকের পাশাপাশি অফিসের সাজে অনুষঙ্গও গুরুত্বপূর্ণ। গলা ও কানের দুল, আটিং, চেইন কিংবা ব্রেসলেট কোনটি কতটা মানানসই, নির্ভর করে পোশাক, ব্যক্তিত্ব ও কর্মপরিবেশের ওপর। তাই অফিসে গয়না বাছাইয়ে থাকুক পরিমিতি ও রুচির ছোঁয়া। লিখেছেন নাহার সুলতানা
অফিসের পোশাক বলতে এক সময় চোখের সামনে ভেসে উঠত বেশ চেনা একটি ছবি। আর সেটা হলো সাধারণ অফিসের ক্ষেত্রে সালোয়ার কামিজ কুর্তা কিংবা সুতি জর্জেট কিংবা সিল্ক শাড়ির সঙ্গে ম্যাচিং ব্লাউজ। আর কপোরেট লুকে স্ট্রাকচার্ড ব্লেজার-ট্রাউজার, সঙ্গে মানানসই কিছু ছোট গহনাগাটি। এটাই ছিল একজন নারী কর্মজীবীর অফিসের চিরচেনা পোশাক।
তবে সময় বদলেছে। অফিসের কাজের পাশাপাশি সাজও হয়ে উঠেছে অনেকটা খেয়ালের বিষয়। পোশাকের পাশাপাশি গহনাতেও কর্মজীবী খুঁজছেন নিজের স্বাচ্ছন্দ্য, ব্যক্তিত্ব আর ফ্যাশন ট্রেন্ড ধরে রাখার চেষ্টা। কর্মক্ষেত্রের উপযোগী গহনাও এখন সাজের অংশ হয়েছে।
কোন গহনা কার জন্য
অফিসের সাজে একসঙ্গে অনেক গহনা পরার দরকার নেই। বরং একটি নির্দিষ্ট গহনাকে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। হতে পারে সেটি একটি সুন্দর চেইন, কানের দুল কিংবা স্টেটমেন্ট রিং। অথবা হাতে ব্রেসলেট কিংবা একটা ঘড়ি বা চুড়ি। গলায় ও কানে এই দুই জায়গার গহনা খুব সহজেই পুরো লুকের চরিত্র বদলে দিতে পারে। আবার চাইলে গলার বা কানের গহনা বাদ দিয়ে আংটির দিকেও মনোযোগ দেওয়া যায়। একাধিক আংটি পরলে ব্রেসলেট বা চুড়ি একেবারে সাদামাটা হবে। গহনাগাটি যাই পরুন পোশাক ও পরিবেশের সঙ্গে যাতে মানিয়ে যায়।
গহনাগাটিতে সচেতনতা
অফিসের জন্য সাধারণ নকশার চেইন সব সময়ই মানানসই। তবে গলায় একটু আলাদা করে নজর আনতে চাইলে বেছে নিতে পারেন ছোট ও মিনিমাল একটি লকেট। জ্যামিতিক নকশা, ছোট ফুল কিংবা হালকা স্টোন এ ধরনের ডিজাইন সহজেই মানিয়ে যায় অফিসের পোশাকে। খুব ভারী বা অতিরঞ্জিত নকশার বদলে এখানে সরলতাই বেশি আকর্ষণীয়। বড় স্টোন মালা বাদ দিয়ে চেইনের সঙ্গে মুক্তার লকেটও পরতে পারেন।
শর্ট সিøভের পোশাক পরলে কিংবা শার্ট বা ব্লেজারের হাতা গুটিয়ে রাখার অভ্যাস থাকলে হাতে একটি হালকা ব্রেসলেট বেশ মানিয়ে যেতে পারে। চুড়িও হতে পারে বিকল্প। তবে একসঙ্গে অনেক রকম নকশা বা রঙের চুড়ি না পরে নির্দিষ্ট ধাঁচে থাকা ভালো। সহজ নকশার একটি ব্রেসলেট বা চুড়িই অনেক সময় পুরো পোশাকে এনে দিতে পারে পরিমিত সৌন্দর্য। গহনার তালিকা ছোট করতে চাইলে শুধু আংটির ওপরও নির্ভর করা যায়। একাধিক আঙুলে কয়েকটি সরু রিং পরলে তৈরি হতে পারে স্টাইলিশ লুক।
আবার চাইলে একটি বিশেষ আংটিকেই দেওয়া যায় পুরো গুরুত্ব। দুটিই অফিসের পোশাকে মানানসই হতে পারে নির্ভর করবে পোশাক, ব্যক্তিগত রুচি এবং স্বাচ্ছন্দ্যের ওপর।
অফিসের গহনা বেছে নেওয়ার সময় অক্সিডাইস গুরুত্ব দিতে পারেন। সোনার ছোটখাটো গহনা পরা যায়। অন্যদিকে রুপালি গহনা এনে দিতে পারে তুলনামূলক শার্প ও সমকালীন ট্রেন্ড। আর একটু ফ্যাশন-ফরোয়ার্ড হতে চাইলে বেছে নেওয়া যায় মিক্সড মেটাল।
অফিসের গহনার ক্ষেত্রে আসলে কোনো বাঁধাধরা নিয়ম নেই। কেউ ছোট্ট একজোড়া দুলেই স্বচ্ছন্দ, কেউ আবার একটু বড় লকেট বা একাধিক রিংয়ে নিজের স্টাইল খুঁজে পান। কেউ বছরের পর বছর একই গহনা পরেন, আবার কেউ পোশাক ও মুড অনুযায়ী নিয়মিত বদলে নেন। অফিসের অনুষঙ্গ এমন হবে যাতে কর্মক্ষেত্রে স্বাচ্ছন্দ্য, আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্ব তিনটিই পাশাপাশি থাকে। অফিসের সাজে তাই জাঁকজমকের চেয়ে সহজ, পরিমিত ও রুচিশীল গহনাই হতে পারে সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক পছন্দ।