মার্কিন সাংবাদিক ইভান গের্শকোভিচ বলেছেন, ২০২৩ সালে রাশিয়ার এফএসবি তাকে গ্রেপ্তার করার মুহূর্তেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁদে ফেলা হয়েছে। বিবিসি রেডিও ৪-এর ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে তিনি জানান, ইয়েকাতেরিনবার্গের একটি রেস্তোরাঁয় মুখোশধারী কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরে গ্রেপ্তার করে। তখন তিনি বুঝেছিলেন, এটি আগে থেকেই পরিকল্পিত। খবর বিবিসির।
গের্শকোভিচ বলেন, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ বা নির্যাতন না করায় একসময় তার মনে হয়, তাকে প্রকৃত গুপ্তচর হিসেবে নয়, বরং ভবিষ্যতে বন্দি বিনিময়ের জন্য ‘জিম্মি’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই ধারণাই কারাগারে তাকে মানসিকভাবে স্থির থাকতে সাহায্য করে। শেষ পর্যন্ত ১৬ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া গের্শকোভিচ ১৬ মাস পর ২০২৪ সালের ১ আগস্ট একটি বহুল আলোচিত বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে মুক্তি পান। তার বিনিময়ে রাশিয়া জার্মানিতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত রুশ গুপ্তঘাতক ভাদিম ক্রাসিকভকে ফিরে পায়।
গ্রেপ্তারের সময় গের্শকোভিচ ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মস্কোভিত্তিক বিদেশি সংবাদদাতা ছিলেন। তিনি ও তার নিয়োগকর্তা বরাবরই বলে আসছেন, তার বিরুদ্ধে আনা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ মিথ্যা।
মস্কোর কুখ্যাত লেফোর্তোভো কারাগারে ১৬ মাসের বন্দিজীবনকে তিনি অত্যন্ত বিচ্ছিন্ন ও মানসিকভাবে কঠিন অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে তার সঙ্গে তুলনামূলকভাবে ভালো আচরণ করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি। আদালতে হাজিরার সময় ক্যামেরার সামনে হাসিমুখে থাকার বিষয়টি ছিল ইচ্ছাকৃত—মানুষকে বোঝাতে যে তিনি ভেঙে পড়েননি।
মুক্তির পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতেও সমস্যার মুখোমুখি হন গের্শকোভিচ। ঘুমের সমস্যা, বড় ভিড়ে আতঙ্ক এবং মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি। পরে পিটিএসডি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে থেরাপি নেন এবং নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে বই লেখাও তাকে পরিস্থিতি সামলাতে সাহায্য করে।
রাশিয়ার সঙ্গে তার দীর্ঘ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে গের্শকোভিচ বলেন, একদিন তিনি দেশটিতে ফিরতে চান। তবে পুতিনের পর রাশিয়ায় কী ধরনের সরকার আসে, তা দেখার বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।