জীবনের ক্লান্তি দূর করতে এবং মনকে প্রফুল্ল রাখতে ভ্রমণের বিকল্প নেই। সাধারণ দৃষ্টিতে ভ্রমণকে বিনোদনের মাধ্যম মনে করা হলেও ইসলামের দৃষ্টিতে এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ। যখন কোনো বান্দা মহান আল্লাহর বিশাল সৃষ্টিজগত প্রত্যক্ষ করতে এবং সেখান থেকে শিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে, তখন তা এক আনন্দময় ইবাদতে পরিণত হয়।
মহান আল্লাহ মানুষকে পৃথিবী ঘুরে দেখার এবং তার সৃষ্টির অসীম কুদরত নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার তাগিদ দিয়েছেন। কোরআনের একাধিক স্থানে ভ্রমণের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আপনি বলুন, তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করো এবং অনুধাবন করো, কীভাবে তিনি সৃষ্টির সূচনা করেছেন।’ (সুরা আনকাবুত ২০)
অতীত জাতির ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার তাগিদ দিয়ে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের পূর্বে বহু রীতিনীতি অতীত হয়েছে। অতএব তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ করো এবং দেখো সত্য অস্বীকারকারীদের পরিণতি কী হয়েছিল।’ (সুরা আলে ইমরান ১৩৭)
এসব আয়াত প্রমাণ করে, সঠিক মানসিকতা নিয়ে ভ্রমণের বিষয়টি মুমিনের ইমানি চেতনাকে সমৃদ্ধ করে। জ্ঞান অর্জন এবং দ্বীনের দাওয়াতের উদ্দেশ্যে সফর করাকে সুন্নাহ হিসেবে গণ্য হয়েছে। বিশ্বনবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।’ (সহিহ মুসলিম)
সফর অবস্থায় মানুষের দোয়া আল্লাহর দরবারে দ্রুত কবুল হয়। হাদিসে এসেছে, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া নিঃসন্দেহে কবুল হয়। মজলুমের দোয়া, মুসাফিরের (ভ্রমণকারীর) দোয়া এবং সন্তানের জন্য পিতার দোয়া।’ (জামে তিরমিজি)
ভ্রমণকে ইবাদতে রূপান্তরিত করতে সেই মানসিকতা থাকা জরুরি। যেমন নিয়তের শুদ্ধতা। হাদিস অনুযায়ী প্রতিটি কাজের প্রতিদান নির্ভর করে নিয়তের ওপর। আল্লাহর সৃষ্টি দেখে তার শুকরিয়া আদায় এবং ইবাদতে নতুন উদ্যম ফেরানোর নিয়তে ভ্রমণ করলে পুরো সময়টি ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়।
ইমাম শাফেয়ি (রহ.) ভ্রমণের পাঁচটি বিশেষ উপকারিতা উল্লেখ করেছেন। দুশ্চিন্তা দূর হয়, জীবিকা অর্জন, জ্ঞান লাভ, শিষ্টাচার শিক্ষা এবং শারীরিক সুস্থতা অর্জন হয়।
লেখক : শিক্ষক ও ইসলামি গবেষক