মিরপুরে তরুণ উদ্যোক্তার গেমিং ক্যাফে

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৪ এএম

দেশজুড়ে উঠতি বয়সী তরুণদের মধ্যে গেমিংয়ের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। স্মার্টফোন ও কম্পিউটার গেমসের জগৎ এখন তরুণ প্রজন্মের অবসর কাটানোর অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে। এই আগ্রহকে কেন্দ্র করে নিজের একটি স্বপ্ন বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন তরুণ উদ্যোক্তা জাফরুল হাসান। গেমিংয়ের প্রতি তার ব্যক্তিগত আগ্রহ এবং নতুন কিছু করার তীব্র ইচ্ছা থেকেই শুরু হয় তার ‘এবহঢ এধসরহম তড়হব’-এর যাত্রা। মিরপুরের ব্যস্ত এলাকায় একটি গেমিং ক্যাফে গড়ে তোলা সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না, কিন্তু তিনি সাহস করে এগিয়ে গেছেন।

শুরুটা তার জন্য একদমই সহজ ছিল না। নতুন ধরনের এই ব্যবসা নিয়ে নানা ধরনের চিন্তা ও অনিশ্চয়তা ছিল। বিশেষ করে এলাকায় পর্যাপ্ত সাড়া পাওয়া যাবে কি না, মানুষ গেমিং ক্যাফেতে আসবে কি না, প্রতিযোগিতা কেমন হবে এসব প্রশ্ন ছিল শুরু থেকেই। পুঁজি সংগ্রহ, জায়গা নির্বাচন, আধুনিক গেমিং পিসি ও কনসোল কেনা, ইন্টারনেট সংযোগের গতি নিশ্চিত করা, সবকিছুতেই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক সময় পরিবারের সদস্যরাও সন্দেহ প্রকাশ করতেন। তবে জাফরুল হাসান ধৈর্য ধরে কাজ করে গেছেন। ধীরে ধীরে পরিচিতি বাড়তে থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার, স্থানীয় তরুণদের মুখে মুখে খবর ছড়িয়ে পড়া এবং ভালো সার্ভিসের কারণে ক্যাফেটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

বর্তমানে ক্যাফেটিতে নিয়মিত তরুণ ও শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সের গেমিং নিয়ে উৎসাহিত মানুষদের উপস্থিতি দেখা যায়। ছুটির দিন তো বটেই, সাধারণ দিনেও এখানে ভিড় লেগে থাকে। কখনো কখনো এত ভিড় থাকে যে ক্লায়েন্টদের অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষাও করতে হয়। অনেকে এখানে এসে বন্ধুদের সঙ্গে মিলে টুর্নামেন্ট খেলেন, কেউ একা মনোযোগ দিয়ে প্র্যাকটিস করেন। গেমিং জোনটি শুধু খেলার জায়গা নয়, তরুণদের মিলনমেলাও হয়ে উঠেছে। এখানে এসে তারা নতুন বন্ধুত্ব গড়ে তোলে, দলগত খেলার মাধ্যমে টিমওয়ার্ক শেখে এবং প্রযুক্তির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হয়।

জাফরুল হাসানের কাছে এই উদ্যোগ শুধু একটি ব্যবসা নয়। এটি তার নিজের আগ্রহ, পরিশ্রম ও উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নের একটি অংশ। ছোট পরিসরে শুরু করা একটি উদ্যোগ কীভাবে ধীরে ধীরে তরুণদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে, তার একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে এই গেমিং ক্যাফেটি। তিনি বিশ্বাস করেন, তরুণদের মধ্যে সৃজনশীলতা ও উদ্যোক্তা মানসিকতা তৈরি করতে এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে, এটিকে আরও আধুনিক করা, নতুন সরঞ্জমাদি যোগ করা, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর) সেটআপ যোগ করা এবং তরুণদের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ বিনোদনের জায়গা তৈরি করা। এ ছাড়া নিয়মিত টুর্নামেন্ট আয়োজন করে স্থানীয় গেমিং কমিউনিটিকে আরও সক্রিয় করার পরিকল্পনাও রয়েছে। একজন তরুণের আগ্রহ থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ এখন মিরপুরের গেমিং কমিউনিটিতে ধীরে ধীরে নিজের একটি জায়গা তৈরি করছে। জাফরুল হাসানের এই সাফল্য অন্য তরুণ উদ্যোক্তাদেরও অনুপ্রেরণা দিচ্ছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত