সৃজনশীল ও ইকো-ফ্রেন্ডলি উদ্যোগ

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৬ এএম

এত বড় ফুল হাতে নিয়ে হাঁটছিলেন।

রাস্তায় মানুষ তাকিয়ে দেখছে, ক্যামেরাম্যানরা ছুটে আসছে, নিউজেও উঠছে। কেউ বলছে, ‘আপু, গাছে কি পানি বেশি দিয়ে ফেলেছেন?’ কেউ জিজ্ঞেস করছে, ‘এখনই ছিঁড়ে আনলেন নাকি?’ কমপ্লিমেন্টের ঝড়। এই দৃশ্য এখন আর অচেনা নয় তার কাছে। বাংলাদেশে এত বড় কৃত্রিম ফুল নিয়ে কাজ করা, তিনি মনে করেন, তিনিই প্রথম। এই বিশাল ফুলগুলো দেখলে মনে হয় যেন কোনো স্বপ্নের জগৎ থেকে এসেছে।

চ্যালেঞ্জ ছিল অনেক। স্পেস লাগে বেশি, ম্যাটেরিয়াল ঢাকার বাইরে পাওয়া যায় না। তবু তিনি ঠিক করেছিলেন, পারতেই হবে। চাকরির সময় প্রচুর জাম্প করতেন, শুধু শেখার জন্য ট্র্যাক বদলাতেন। এখনো চিন্তা করেন ওয়ার্ল্ড ক্লাস কেবল, সমুদ্রের তলদেশে যাওয়া বা পাহাড়ে ওঠার কথা। ‘স্কিল যত ডেভেলপ হবে, কনফিডেন্স তত বাড়বে’, এই বিশ্বাসই তার চালিকাশক্তি। সব মেয়েকেই বলেন, লেগে থাকতে, কোনো না কোনো স্কিল তৈরি করতে। তার মতে, স্কিল থাকলে কোনো বাধাই বাধা নয়।

তার তৈরি বিশাল ফুলগুলো ডেকোরেশনে এক নতুন মাত্রা এনেছে। জন্মদিন, বিয়ে, বেবি শাওয়ার যেকোনো পার্টিতে এক নিমিষে ‘ওয়াও’ লুক। ছোট ছোট ফুল দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেবারের বদলে মাত্র তিনটি পার্ট অ্যাটাচ করেই কাজ শেষ। লোকজন হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখে, সত্যিই কি পাপড়ি? ফ্যাব্রিক এমনভাবে বেছে নেওয়া হয় যেন স্পর্শেও প্রাকৃতিক অনুভূতি আসে। চাহিদা বাড়ছে, যদিও সরাসরি প্রতিযোগী কম। অনেকে এখন ইভেন্ট ডেকোরেশনে তার ফুল ব্যবহার করছেন।

রেন্ট ও রিটেইল দুই ব্যবস্থাই আছে। অর্ডার অনুসারে স্ল্যাবভিত্তিক ভাড়া। বড় অর্ডারে সময় লাগতে পারে এক মাস পর্যন্ত। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, রিসাইক্লিং। যে জিনিস দেশে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয় বা বাটন-কয়েল বানানো হয়, তা দিয়ে তিনি ডল, টারসেলসহ নানা ক্রাফট তৈরি করেন। ঘরে বসে কাজ করতে আগ্রহী অন্তত ৫০ জন নারী আছেন তার হাতে। তাদের জন্যই নতুন নতুন প্রোডাক্ট মাথায় আসে। রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট বা গার্ডেন ডেকোরেশনে ইকো-ফ্রেন্ডলি এই জিনিস বিদেশিদেরও পছন্দ। চাইলে কোম্পানির লোগো দিয়েও সাজানো যায়।

একসময়ের চাকরিজীবী মেয়ে আজ নিজের হাতে গড়ে তুলেছেন এক ব্যতিক্রমী ব্যবসা। বড় ফুলের পাশাপাশি তিনি ছড়িয়ে দিচ্ছেন আরেক বার্তা, স্কিল থাকলে, জেদ থাকলে নতুন কিছুই অসম্ভব নয়। মিডামিন এখন শুধু একটি ব্যবসা নয়, অনেক নারীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করেছে। তার এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, সৃজনশীলতা ও পরিশ্রম দিয়ে যেকোনো ক্ষেত্রেই সাফল্য আনা সম্ভব।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত