হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জামায়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনের ঘটনাকে ‘মব ও ইচ্ছাকৃত বিশৃঙ্খলা’ বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে হঠাৎ বিমানবন্দর পরিদর্শনে এসে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের এখানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, যিনি এই এয়ারপোর্টের দায়িত্বে নিয়োজিত, তিনি এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর, গ্রুপ ক্যাপ্টেন, তাকে উদ্ধত হয়ে মারতে গিয়েছে, একজনকে মেরেছে। তো এই যে ঘটনাগুলি, এগুলি অনভিপ্রেত এবং এগুলি ইচ্ছাকৃত।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরেতো ভোগান্তি ছিলই। আমরা ১৫ বছরের ভোগান্তিতে ছিলাম। পানিটা (জমজমের পানি) সব শেষের দিকে থাকে। এটা লিকুইড ফর্মে যেটা থাকে আর কি, হেজার্ডাস জন—এগুলিকে শেষে দেওয়া হয়। আমরাও অনেক সময় দেখেছি যে আমরা লাগেজে তো ৪০ মিনিটের মধ্যে পেয়ে গেছি। বসে আছি, শেষে একদম সব শেষ করে পানিটা আনা হয়। তো হজ করে এসে একটু ধৈর্য ধরা লাগে আর কি।
তিনি বলেন, সেই ধৈর্যটা যদি কারো না থাকে, আর যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ বিশৃঙ্খলা করতে চায়, তাহলে তো এটা পরিলক্ষিত হয়েছে, আমিও দেখেছি। এটা একটা গ্রুপ, যারা সরকারের এই স্বস্তি দেখতে চায় না, অস্থির করতে চায় সরকারকে। এবং সরকারের যে ইচ্ছা আছে যে সুন্দর, সাবলীলভাবে সবকিছু চলুক, সেগুলির বিরুদ্ধাচারণ করার জন্য যে একটি দল রয়েছে, সেই দলের লোকেরাই তো এই কাজটি করেছে, তাই না? এবং এ দলের লোকেরা যে কাজটি করেছে, সরকারি কাজে বাধা দিয়েছে।
এ ঘটনাগুলো ইচ্ছাকৃত মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, এখানে একটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে…অনেকে আমি এখন শুনলাম কাস্টমসের যে ক্লিয়ারেন্স দেবে, সেদিক দিয়ে না বের হয়ে তারা ট্রলির জায়গা দিয়ে বের হতে চাচ্ছিল। এবং ট্রলির যে কথা বলা হচ্ছিল, এ পাশে অনেক ট্রলি ছিল। সেগুলো আনতেও তো একটু সময় লাগবে। যদি দুটো ফ্লাইট একসঙ্গে নামে তাহলে তো ট্রলিগুলো আনতে সময় লাগে।
তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় বিষয় হয়েছে আমাদের অফিসাররা কাজ করে না বা এই সরকারের আমলে অফিসাররা কাজ করছে না এমন একটা কিছু তুলে ধরার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এটা বিরোধী দল যারা করেন তারা সরকারের ভালো কাজগুলোকে ঢেকে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় ভুল বিষয়গুলোকে উপস্থাপন করে করে এরকম বিব্রত করার চেষ্টা করছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে সৌদি আরব থেকে ওমরাহ হজ শেষে শাহজালাল বিমানবন্দরে নেমে সঙ্গে জমজমের পানি না পেয়ে হট্টগোল করেন জামায়াতের কিছু নেতা ও সংসদ সদস্য।
এসময় জামায়াত নেতা ও কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান রঞ্জন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগীব সামাদকে ডেকে রূঢ় আচরণ করেন।