প্রিজন ভ্যান থেকে `পিচ্চি রাজা'র পলায়ন: বোন ও ২ পুলিশ সদস্য রিমান্ডে

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১২ এএম

ঢাকার মোহাম্মদপুরের ‘শীর্ষ মাদক কারবারি’ ও ৩০টি মামলার আসামি রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’ প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্য এবং পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমাকে ৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

গাজীপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪ এর বিচারক জুবায়ের রশীদ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডপ্রাপ্ত দুই পুলিশ সদস্য হলেন— এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস এবং প্রিজন ভ্যান চালক নায়েক কামাল হোসেন।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক বলেন, সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মিজানুর ইসলাম সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আসামিদের আদালতে উপস্থাপন করেন। আদালতে ওইদিন শুনানি না হওয়ায় তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার বিচারক তাদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

২৭ সেপ্টেম্বর সকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৩০ আসামিকে ঢাকার আদালতে হাজিরা ও মামলার শুনানির জন্য নেওয়া হয়। সেদিনই ‘পিচ্চি রাজা’র পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।

সেদিন পুলিশ জানিয়েছিল, আদালতের কাজ শেষে আসামি বহনকারী গাড়িটি রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় প্রিজন ভ্যান থামানো হলে এসআই প্রবীর কুমার ‘পিচ্চি রাজা’কে শৌচকর্মের জন্য গাড়ি থেকে নামান। এ সময় তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে অন্য ২৯ আসামিকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়।

এ ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রিজন ভ্যানের সঙ্গে থাকা পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তারা হলেন- এসআই প্রবীর কুমার, কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, মো. সাকিব, শাকিল হোসেন এবং প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেন।

পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে ঘটনা তদন্তে গঠিত পর্যবেক্ষণ কমিটি।

তদন্তে নেমে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানতে পারে, পিচ্চি রাজা বাইমাইল থেকে পালাননি। তিনি ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকে পালিয়েছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার বলেন, ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আসামিদের ঢাকার আদালতে নেওয়া হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে রাতে তাদের কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।

‘ফেরার পথে তাঁতীবাজার এলাকার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে প্রিজন ভ্যানটি থামানো হয়। ওই সময় ভ্যানের ইনচার্জের দায়িত্বে ছিলেন প্রবীর কুমার। তিনি চালক নায়েক কামাল হোসেনের কাছ থেকে চাবি নিয়ে ভ্যানের তালা খুলে দেন। ‘পিচ্চি রাজা’সহ দুই হাজতিকে ভ্যান থেকে নামানো হয়। অন্য হাজতি খাইরুল বাশারকে পরে ভ্যানের সামনের দিকে বসানো হলেও ‘পিচ্চি রাজা’কে আর ভেতরে নেওয়া হয়নি।’

পুলিশ কমিশনার বলেন, পুরো ঘটনাটিই ছিল পূর্বপরিকল্পিত। রাস্তার পাশে আগে থেকেই অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেট কারে পিচ্চি রাজাকে তুলে দেন প্রবীর কুমার। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখিয়ে তিনি আবার পাহারা দেওয়া পুলিশ দলের সঙ্গে যোগ দেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত