বলা হয়ে থাকে, একজন শিক্ষকের হাতে মানুষের দ্বিতীয় জন্ম হয়ে থাকে। প্রতি বছর ৫ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী শিক্ষক দিবস পালিত হয়। এই বিশেষ দিনকে স্মরণে রেখে শিক্ষার্থীরা শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তাদের শিক্ষাগুরুকে
জীবন পদ্মপাতার শিশিরের মতো ক্ষণস্থায়ী। সময়ের হাওয়ায় অনেক স্মৃতি মিলিয়ে যায়। কিন্তু কিছু মানুষ তাদের কাজ ও ভালোবাসার ছাপ রেখে যান প্রজন্মের মনে। শিক্ষক মনছুরুল আলম এরশাদ তেমনই এক নিঃশব্দ নির্মাতা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফলিত পদার্থবিদ্যা এবং ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের পর ৩৩তম বিসিএসের মাধ্যমে ২০১৪ সালে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেন। রামগড় সরকারি কলেজে শিক্ষকতার পর ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল সাতকানিয়া সরকারি কলেজে যোগ দেন। দীর্ঘদিন ধরে সেখানেই নিষ্ঠার সঙ্গে পদার্থবিদ্যা পড়িয়ে চলেছেন। করোনাকালের সেই কঠিন সময়ে টিনচালার একটি ঘরে তার কাছে পড়ার সুযোগ হয়েছিল। তখন বুঝেছিলাম, তিনি শুধু পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র শেখান না; শেখান কীভাবে ভাবতে হয়, নিজেকে প্রকাশ করতে হয়। পদার্থবিদ্যার পাশাপাশি গণিত, রসায়ন ও তথ্যপ্রযুক্তিতেও তার সাবলীল পাঠদান ছিল অনন্য। কঠোর শাসনের আড়ালে ছিল গভীর স্নেহ। তার মুখের কঠিন কথাগুলো তখন হয়তো ভয় তৈরি করত, কিন্তু আজ বুঝি সেই কঠোরতাই ছিল আত্মগঠনের পাঠ। স্যারের ক্লাস ছিল আত্মবিশ্বাস তৈরিরও জায়গা। মঞ্চে দাঁড়িয়ে কথা বলতে যে ভয় একসময় আমাকে কাঁপিয়ে দিত, স্যারের দেখানো অনুশীলনেই তা অনেকটা কাটিয়ে উঠেছি। সাংবাদিকতা ও জনসম্পৃক্ত কাজে আজ যে সাবলীলতা, তার পেছনে স্যারের শিক্ষারও ভূমিকা আছে। উচ্চ মাধ্যমিকের পর দূরত্ব বেড়েছে, নিয়মিত দেখা হয় না। তবু স্যারের শাসন, স্নেহ ও স্মৃতি আজও গভীরভাবে অনুভব করি। শিক্ষক যখন পেশাকে দায়িত্বের চেয়ে বড় করে একটি মিশনে পরিণত করেন, তখন তিনি শুধু পাঠদান করেন না, নীরবে মানুষ নির্মাণ করেন। মনছুরুল আলম এরশাদ স্যার সেই নির্মাতাদেরই একজন।
শিক্ষার্থী, ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষ (দিবা), চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ