হ্যাটট্রিকের রোমাঞ্চে শুরু, এরপর ব্যাট হাতে রান পাহাড় গড়ার পথে বাংলাদেশ। আবুধাবি টেস্টের তৃতীয় দিনে বল হাতে হাসান মাহমুদের জাদুতে দিশাহারা আফগানিস্তান। পরে মুশফিকুর রহিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটিং দৃঢ়তায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছেন সফরকারীরা। গতকাল দিনের শেষ ভাগে দ্রুত ৩ উইকেট হারালেও প্রথম ইনিংসের ৩২৯ রান লিড নিয়েছে বাংলাদেশ।
শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে একমাত্র টেস্টের তৃতীয় দিনশেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২২৩ রান। লিটন কুমার দাস ৫ ও মেহেদী হাসান মিরাজ শূন্য রান নিয়ে আজ চতুর্থ দিন শুরু করবেন। হাতে ৪ উইকেট স্কোর বোর্ডে আরও রান জমা করার লক্ষ্য লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। নিজেদের পরিকল্পনা জানিয়ে এ টেস্টের তৃতীয় দিনের নায়ক হাসান এক ভিডিওবার্তায় বলেন, ‘আমরা ভালো একটা লিড নিয়েছি। আগামীকাল যতদূর সম্ভব আরেকটু রান করার চেষ্টা করব এবং ওদের বড় একটা লক্ষ্য দেব।’
৪ উইকেটে ২১১ রান নিয়ে গতকাল ব্যাটিংয়ে নামে আফগানিস্তান। ক্রিজে থাকা রহমত শাহ ও ইকরাম আলিখিলের জুটিতে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা ছিল তাদের। কিন্তু নতুন বল হাতে নিয়েই ম্যাচের চিত্র বদলে দেন বাংলাদেশের দুই পেসার। ইবাদত প্রথমে ইকরামকে বোল্ড করে ৮০ রানের জুটি ভাঙেন। এরপর হাসানের বিধ্বংসী বোলিংয়ে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে আফগানিস্তান। ইসমত আলমকে বোল্ড করার পর কায়েস আহমেদকে লিটনের হাতে ক্যাচ বানিয়ে ফেরান হাসান। পরের বলে জিয়াউর রহমানকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট হ্যাটট্রিক। বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টেস্টে এ কীর্তি গড়লেন তিনি। সব মিলিয়ে দেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিকের তালিকায় নাম লেখালেন হাসান। পরে ইয়ামিন আহমাদজাইকে ফিরিয়ে ইনিংসে ৫ উইকেট পূর্ণ করার পাশাপাশি টেস্ট ক্যারিয়ারে ৫০ উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেন তিনি।
নিজের এমন জাদুকরী বোলিং নিয়ে হাসান বলেন, ‘সকালে যখন বোলিং শুরু করি, দেখেছিলাম উইকেটে অনেক মুভমেন্ট ছিল। আমার পরিকল্পনা ছিল টপ অব দ্য বল করে সুইং করানো। নতুন বলে ব্যাটসম্যানকে যত খেলানো যায়, সেই চেষ্টা করেছি। স্ট্রেট বোলিং করার চেষ্টা করেছি। এতেই সফল হয়েছি।’
হাসানের তোপে আফগানিস্তানের শেষ ৬ উইকেট পড়ে মাত্র ২৯ রানের মধ্যে। তবে এক প্রান্তে অবিচল ছিলেন অধিনায়ক রহমত। ১০ চার ও দুই ছক্কার সাহায্যে ক্যারিয়ারের চতুর্থ টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ১০৫ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। কিন্তু সতীর্থদের ব্যর্থতায় তার লড়াই বড় সংগ্রহ এনে দিতে পারেনি দলকে। হাসান ৫৫ রানে ৫ উইকেট এবং ইবাদত ৫৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে আফগানদের ইনিংস গুটিয়ে দেন ২৪০ রানে।
বড় লিড পাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক ও তানজিদ হাসান ফিরে গেলে ৫৩ রানে ৩ উইকেট হারায় দল। সেখান থেকে হাল ধরেন মুশফিক ও শান্ত। শুরুতে কঠিন পরীক্ষা সামলে দুজনই ধীরে ধীরে ছন্দ খুঁজে পান। চতুর্থ উইকেটে তাদের ১৫৯ রানের জুটি বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহের পথে ফিরিয়ে আনে। প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়া মুশফিক এবার খেলেন ১৪৮ বলে ৮১ রানের ইনিংস। অন্য প্রান্তে শান্ত করেন ১৯১ বলে ৮২ রান। দুজনই সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও তিন অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। দিনের শেষ ভাগে তাদের বিদায়ের পর হাসান মাহমুদও ফিরে গেলে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ে বাংলাদেশ। তবে ততক্ষণে রানের পাহাড় জমিয়েছেন সফরকারীরা।