রাজধানীর মোহাম্মদপুর-বসিলা সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকদের অবরোধে প্রায় দেড় ঘণ্টা চরম ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। গতকাল রবিবার সকাল ১০টার দিকে মোহাম্মদপুর চার রাস্তার মোড়ে সড়ক আটকে অবস্থান নেন চালকরা। এতে মোহাম্মদপুর, বসিলা ও গাবতলীগামী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আশপাশের সড়কগুলোতেও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। কর্মব্যস্ত সকালে অফিসগামী মানুষ, বাসযাত্রী ও ব্যক্তিগত যানবাহনের যাত্রীরা পড়েন বিপাকে। কেউ কেউ দীর্ঘ সময় একই জায়গায় আটকে থাকেন।
ঢাকা শহরে তিন দিনের মধ্যে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করার বিষয়ে সড়ক ও সেতুমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করেন চালকরা। তাদের অভিযোগ, সড়কে চলাচলের সময় কোনো কারণ ছাড়াই অটোরিকশা আটক বা ডাম্পিং করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে গাড়ি ফেরত না পাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা। অন্যদিকে চালকদের দাবি আদায়ের কর্মসূচিতে সড়ক বন্ধ হয়ে সাধারণ মানুষকে যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন যাত্রীরা।
গতকাল সকাল থেকে সড়ক অবরোধের কারণে মোহাম্মদপুর চার রাস্তার মোড় ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে। গণপরিবহনসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকে থাকায় নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন যাত্রীরা। ধানমন্ডিগামী রুকন উদ্দিন বলেন, ‘আমি ধানম-িতে যাব। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ধরে মোটরসাইকেলে বসে আছি, কিন্তু সামনে এগোতে পারছি না।’
বাসযাত্রী আমজাদ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে সরকারের নতুন করে ভাবা উচিত। চালকরা যখন ইচ্ছা সড়ক বন্ধ করে দেবেন, এমনটা হতে পারে না। অফিস সময়ে মানুষকে চরম ভোগান্তিতে ফেলতেই এ অবরোধ করা হয়েছে।’ অন্যদিকে চালকদের দাবি, সড়কে চলাচলের সুযোগ না পেয়ে তারা বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছেন। অটোরিকশাচালক ইমাম হোসেন বলেন, অবরোধের মূল দাবি একটাই সড়কে গাড়ি চলতে দিতে হবে। কোনো কারণ ছাড়াই গাড়ি ডাম্পিং করা হয়। ইউটার্ন নিতে গেলেও গাড়ি আটক করা হয়। পরে গাড়ি ছাড়াতে গেলে আজ নয়, কাল দেওয়া হবে বলে ঘোরানো হয়। তিনি বলেন, ‘কয়েকজন চালক গাড়ি ছাড়ানোর কাগজ বা সিøপ হাতে নিয়ে ঘুরছেন। গাড়ি দেওয়ার কথা থাকলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি। পেটে যদি ভাত না থাকে, তাহলে পরিবারে অশান্তি নেমে আসে। বউ, সন্তান ও মা-বাবাকে নিয়ে বিপদে আছি। অনেকে ঋণ করে গাড়ি কিনেছি। কিন্তু গাড়ি আটকে রাখায় ঋণের কিস্তিও পরিশোধ করতে পারছি না।’
আরেক চালক রবিউল আলম বলেন, ‘পুরো শহরে অটোরিকশা চালানোর দাবি তাদের নয়। নির্ধারিত সড়কে চলাচলের সুযোগ চান তারা। তার ভাষ্য, মিরপুর রোডে অটোরিকশা চলতে দেওয়া হয় না, তাই তারা সেখানে ওঠেন না।’ কিন্তু ধানমন্ডি সড়কেও চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না। সেখানে গেলেই গাড়ি ডাম্পিং করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অবরোধের কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগের মধ্যে চালকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয় পুলিশ। পরে দাবিদাওয়া নিয়ে পুলিশের আশ্বাস পেয়ে বেলা ১১টার দিকে সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন চালকরা। অবরোধ প্রত্যাহারের পর ওই সড়কে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি) তানিয়া সুলতানা বলেন, অটোরিকশাচালকদের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। চালকরা মূল সড়কে চলাচলের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ তাদের জানিয়েছে, অনুমোদিত সড়কেই চলতে হবে। বিষয়টি বুঝিয়ে বলার পর তারা অবরোধ তুলে নিয়েছেন।
রাজধানীর সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল, কোন সড়কে এসব যান চলতে পারবে এবং কীভাবে নিয়ম কার্যকর করা হবেএসব বিষয়ে স্পষ্ট ও কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকেই বারবার ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। একদিকে জীবিকার তাগিদে সড়কে চলাচলের সুযোগ চাইছেন চালকরা, অন্যদিকে সড়ক আটকে কর্মসূচি পালনের কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রীরা। নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে চালকদের দাবির যৌক্তিকতা যাচাইয়ের পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখার কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়াও জরুরি।