অজ্ঞাতনামা দুই চালকের বিরুদ্ধে মামলা, বাসটির ফিটনেস ছিল না

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৪ এএম

নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় দুই চালককে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে বড়াইগ্রাম থানায় মামলাটি করেন বনপাড়া হাইওয়ে থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আকবর হোসেন। গতকাল বুধবার সকালে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে দুর্ঘটনাকবলিত আরপি পরিবহনের বাসটির ফিটনেস সনদের মেয়াদ ছিল না বলে নাটোর জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

এর আগে মঙ্গলবার ভোরে বনপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সামনে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২ জন নিহত ও ৩২ জন আহত হন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ট্রাকচালক আবুল কালাম আজাদ (৩২) ও বাসচালক সোহেল রানাও (৩৬) আছেন।

বনপাড়া হাইওয়ে থানাসূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে কুয়াকাটা থেকে ছেড়ে আসা চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী আরপি স্পেশাল পরিবহনের বাসটির সঙ্গে পঞ্চগড় থেকে আসা বালুবোঝাই ট্রাকটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। পরে রাতে পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি করে। মামলায় দুই পরিবহনের অজ্ঞাতপরিচয় চালকদের আসামি করা হয়েছে।

স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যেই সব মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বনপাড়া হাইওয়ে থানার ইনচার্জ উপপরিদর্শক আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, হতাহত ব্যক্তিরা সবাই ভিন্ন জেলার বাসিন্দা। তারা কেউ বাদী হয়ে মামলা করার জন্য থানায় আসেননি। তাই পুলিশ বাদী হয়ে সড়ক নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছে। পুলিশ এ বিষয়ে কাজ করছে। তদন্তে আসামি শনাক্ত হলে এবং বেঁচে থাকলে অবশ্যই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। তবে দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করা চালকদের বিরুদ্ধে মামলার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় যারা মারা গেছেন, তারা প্রকৃতই চালক না সুপারভাইজার সেটি নিশ্চিত নয়। তবে তদন্তে যদি দুই চালকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয় তাহলে মামলার ফাইনাল প্রতিবেদন দেওয়া হবে। আর কোনো গাড়ির ফিটনেসের সমস্যা প্রমাণ হলে সেই গাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বড়াইগ্রাম থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার রাতে মামলাটি রেকর্ড হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ মামলাটি তদন্ত করবে।

বাসটির ফিটনেস সনদের মেয়াদ ছিল না : দুর্ঘটনাকবলিত আরপি পরিবহনের বাসটির ফিটনেস সনদের মেয়াদ ছিল না বলে জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নাটোর অফিসের তথ্যানুযায়ী, বাসটির রুট পারমিট ২০২৮ সালের ১৩ মে পর্যন্ত বৈধ রয়েছে। তবে এর ফিটনেস সনদের মেয়াদ গত ১৩ মে শেষ হয়ে গিয়েছিল। গতকাল দুপুরে নাটোরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোছা. সুমনী আক্তার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জেলা প্রশাসক আরও জানান, তদন্ত কমিটির দেওয়া প্রতিবেদন ও সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে এ ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলার পেছনে দায়ীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত