কর্ণফুলী কমিউটারের তিন বগি লাইনচ্যুত

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৯ এএম

ট্রেনের চাকলের কাছে লাইন মেরামত কাজের সঠিক তথ্য না থাকায় কুমিল্লার লাকসামে ঢাকা-চট্টগ্রাম ডাবল রেলপথে আপলাইনে কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের সময় উপজেলার আজগরা ইউনিয়নের নাওটি রেলওয়ে স্টেশনের আউটার সিগন্যালের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন ট্রেনটির কয়েকশত যাত্রী।

দুর্ঘটনার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। লাইনচ্যুত বগি উদ্ধারে লাকসাম থেকে একটি উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনার ৭ ঘণ্টা পেরিয়ে গেল উদ্ধার কাজ শেষ করতে পারেনি উদ্ধারকর্মীরা। রাত ৭টা দিকেও উদ্ধার কাজ চলছে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ।

এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের পূর্বাঞ্চলের ফেনী অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী সারোয়ার আলম। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার সময় আজগরা এলাকায় রেললাইন মেরামতের কাজ চলছিল। তবে ঠিক কী কারণে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে, তা তদন্তের পর জানা যাবে। এ জন্য ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। যা আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনটি দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে নাঙ্গলকোট রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে আসে। নাওটি স্টেশনে ট্রেনটির যাত্রাবিরতি ছিল না। স্টেশনের আউটার সিগন্যাল অতিক্রম করার সময় হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। এ সময় ট্রেনটির ইঞ্জিনের পেছনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনটিতে প্রায় ১০টি বগি ছিল।

এ বিষয়ে ট্রেনের যাত্রী জসিম উদ্দিন বলেন, তিনি নাঙ্গলকোট থেকে কুমিল্লা যাচ্ছিলেন। নাওটি স্টেশন পার হওয়ার পর হঠাৎ বিকট শব্দে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। এ সময় আতঙ্কিত যাত্রীরা ছোটাছুটি শুরু করেন। এ সময় কিছু যাত্রী আহত হন।

রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, নাওটি এলাকায় গতকাল বুধবার সকাল থেকেই ডাবল লাইনের আপলাইনে মেরামতের কাজ চলছিল। নিয়ম অনুযায়ী, এমন কাজের সময় ট্রেন আসার অন্তত এক কিলোমিটার আগে শ্রমিকদের লাল পতাকা টাঙিয়ে চালককে গতি কমানোর সংকেত দেওয়ার কথা। সংকেত পেলে চালক ট্রেনের গতি কমিয়ে সাবধানে স্থানটি পার হন। কিন্তু বুধবার দুপুরে ট্রেনটি আসার আগে লাল পতাকা টাঙানো হয়নি। চালকের কাছেও আগাম তথ্য ছিল না। ফলে ৭০-৮০ কিলোমিটার গতিতে থাকা ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। এতে লাইনেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন জানা যায়, রেল লাইনের পাশে লাল পতাকা টাঙিয়ে সকাল থেকেই শ্রমিকরা আপলাইনে কাজ করছেন। কিন্তু চালক দ্রুত গতিতে ট্রেনটি চালিয়ে নেওয়ার ফলে ট্রেনের তিন বগি লাইনচ্যুত।

এ বিষয়ে লাকসাম রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার ওমর ফারুক ভূঁইয়া বলেন, দুর্ঘটনায় রেললাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে বগি উদ্ধারের কাজ শুরু করেছে। দ্রুত রেললাইন মেরামত করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার পর আপলাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে ডাউনলাইন দিয়ে দুই দিকের ট্রেন চলাচল অব্যাহত আছে।

লাকসাম রেলওয়ে থানার ওসি রাজিব চন্দ্র কর বলেন, দুর্ঘটনায় ট্রেনটির তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে।

দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। উদ্ধার ও মেরামতকাজ শেষে দুই লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত