চীনের হাসপাতালে অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে বিশেষ সংবর্ধনা

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম

চীনের সাংহাইয়ের পুডং গংলি হাসপাতালে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. রফিকুল ইসলামকে বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। রোবোটিক সার্জারির ওপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে হাসপাতালটির আমন্ত্রণে চীন সফরকালে তাঁর সম্মানে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে হাসপাতালের ইউরোলজি ও এন্ডোইউরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ঝং ওয়াং শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। এ সময় বাংলাদেশের ইউরোলজি ও এন্ডোইউরোলজির উন্নয়ন, আধুনিক চিকিৎসাপ্রযুক্তির প্রসার এবং বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে চিকিৎসা শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে অধ্যাপক ঝং ওয়াং এসআইইউ ফেলো হিসেবে অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের পেশাগত দক্ষতা, চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রতি নিষ্ঠা এবং বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন নিয়ে তাঁর পরিকল্পনার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ইউরোলজি ও এন্ডোইউরোলজিসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়নে তাঁর উদ্যোগের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দুই দেশের চিকিৎসক ও চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বাংলাদেশের ইউরোলজি খাতের সাম্প্রতিক অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইউরোলজি ও এন্ডোইউরোলজির মতো বিশেষায়িত চিকিৎসাক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আধুনিক অস্ত্রোপচার পদ্ধতি, উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবহার, চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার সম্প্রসারণ দেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে রোবোটিক সার্জারির যাত্রা শুরু হওয়া চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আধুনিক এ চিকিৎসাপ্রযুক্তির প্রসারে বর্তমান সরকারও গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে রোবোটিক সার্জারিকে টেকসই ও কার্যকর করতে শুধু অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন যথেষ্ট নয়। এ জন্য দক্ষ সার্জন ও প্রশিক্ষিত অপারেশন থিয়েটার টিম তৈরি, নিয়মিত হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণ, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, উপযুক্ত রোগী নির্বাচন ও দক্ষতার সঙ্গে প্রয়োগ করা হলে রোবোটিক সার্জারি জটিল অস্ত্রোপচারে অধিক সূক্ষ্মতা ও নিয়ন্ত্রিতভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি করতে পারে। ইউরোলজির বিভিন্ন জটিল অস্ত্রোপচারে এ প্রযুক্তির বিশেষ সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে রোবোটিক সার্জারির পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি এন্ডোইউরোলজি ও অন্যান্য বিশেষায়িত চিকিৎসাক্ষেত্রেও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

চীনের চিকিৎসাব্যবস্থার আধুনিকায়ন, রোবোটিক সার্জারিতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং চিকিৎসকদের উচ্চতর প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে চীনের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ লক্ষ্যে দুই দেশের হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশি চিকিৎসকদের রোবোটিক সার্জারিতে উচ্চতর ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ, বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে জ্ঞান বিনিময় এবং কারিগরি সহযোগিতা সম্প্রসারণে চীনের সহযোগিতা কামনা করেন অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশি চিকিৎসকদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, ফেলোশিপ, পর্যবেক্ষণমূলক প্রশিক্ষণ, যৌথ কর্মশালা এবং চীনা বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি রোবোটিক সার্জারির প্রযুক্তিগত পরিচালনা, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং চিকিৎসাপ্রযুক্তি ব্যবহারে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতেও সহযোগিতা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে টেলিসার্জারির সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের চিকিৎসাব্যবস্থায় উন্নত যোগাযোগপ্রযুক্তি ও দূরনিয়ন্ত্রিত অস্ত্রোপচার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ ধরনের প্রযুক্তি বাস্তবায়নে নির্ভরযোগ্য উচ্চগতির যোগাযোগব্যবস্থা, রোগীর নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, আইনগত কাঠামো এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে। চীনের অভিজ্ঞতা ও কারিগরি জ্ঞান বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় এ ধরনের উদ্ভাবনী প্রযুক্তির সম্ভাবনা মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি গ্রহণে সহায়ক হতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন শুধু উন্নত যন্ত্রপাতি আমদানির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারে দেশীয় দক্ষ জনবল তৈরি, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি দক্ষতা অর্জন জরুরি। এ জন্য চীনের সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ও চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোর সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলামের হাতে সম্মাননাসূচক স্মারক তুলে দেন পুডং গংলি হাসপাতালের ইউরোলজি ও এন্ডোইউরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ঝং ওয়াং।

উল্লেখ্য, গত ২৫ অক্টোবর এসআইইউ ফেলো হিসেবে পুডং গংলি হাসপাতালের আমন্ত্রণে রোবোটিক সার্জারির ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে চীনে যান অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত