মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও দয়ার শিক্ষা দিয়েছেন নবীজি (সা.)। তার শিক্ষা ও আদর্শে প্রাণীদের প্রতিও রয়েছে ভালোবাসা। ঘরের পরিচিত প্রাণী বিড়ালের প্রতি তিনি স্নেহশীল আচরণ করতেন। বিড়ালের প্রতি নিষ্ঠুরতা নিষিদ্ধ করেছেন এবং তার যতœ নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। নবীজির জীবন ও হাদিসে বিড়ালের প্রতি ভালোবাসা এবং প্রাণীদের প্রতি দয়াশীল হওয়ার নানা শিক্ষা পাওয়া যায়।
হাদিসে এমন একটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, যেখানে বিড়ালের সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণের ভয়াবহ পরিণতির কথা বলা হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘এক নারীকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়েছে, কারণ সে একটি বিড়ালকে বেঁধে রেখেছিল। সে তাকে খেতে দেয়নি, পানিও দেয়নি এবং ছেড়েও দেয়নি যাতে সে খাবার সংগ্রহ করতে পারে।’ (সহিহ বুখারি) এ হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো প্রাণীর অধিকার আদায় না করাই পাপ। ইসলাম প্রাণী কল্যাণে কতটা গুরুত্ব দিয়েছে, এ হাদিস তার প্রমাণ।
নবীজির জীবনে বিড়ালের উপস্থিতি একটি মানবিক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, একবার নবীজি (সা.) একটি বিড়ালকে অজুর পানিতে মুখ দিতে দেখেও তা থেকে অজু করতে কুণ্ঠাবোধ করেননি। বরং বলেন, এটি গৃহের মধ্যে ঘোরাফেরা করা প্রাণীদের অন্তর্ভুক্ত, যেটি কোনো কিছুকে অপবিত্র করে না। (তাবরানি)
এই হাদিসটি বিড়ালের পবিত্রতা সম্পর্কে এক সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
বিড়ালের উচ্ছিষ্ট বা মুখ দেওয়া পানি নাপাক নয়। তবে ফকিহদের মতে, অন্য পবিত্র পানির ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বিড়ালের উচ্ছিষ্ট পানি দিয়ে ওজু করা মাকরুহে তানঝিহি। অর্থাৎ এমন পানি ব্যবহার না করাই উত্তম। তবে কেউ যদি ওই পানি দিয়ে ওজু করে এবং নামাজ আদায় করে, তাহলে তার ওজু ও নামাজ উভয়ই সহিহ হবে। যেহেতু বিড়ালের উচ্ছিষ্ট পানি অপবিত্র নয়, তাই তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা বৈধ।
লেখক : ইসলামি গবেষক